আগামীর সময়

মুন্সিগঞ্জ

অপরাধ ছাড়াই এক মাসের কারাদণ্ড, দাবি পরিবারের

অপরাধ ছাড়াই এক মাসের কারাদণ্ড, দাবি পরিবারের

রুবেল সরদারের পরিবার। ছবি: আগামীর সময়

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে বিনা অপরাধে রুবেল সরদার নামর এক দিনমজুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের জেল দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। রুবেল সরদারের স্ত্রী সাবিনা আক্তারের দাবি, আমার স্বামীকে কোনো দোষ ছাড়াই জেল দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে উপজেলা মৃধা বাড়ি পদ্মানদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেলের দাবি, এ ঘটনার পর উৎকণ্ঠা বিরাজ। তবে জনসম্মুখে অপরাধ স্বীকার করার পরই রুবেলকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বাসিত সাত্তার।

রুবেলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদী তীরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মো. বাসিত সাত্তার। সেখান বাধা অবস্থায় দুইটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে দুই শ্রমিককে আটক করেন তিনি।

এ সময় বাল্কহেডের পাশেই রুবেল সরদার নামের এক দিনমজুর নদীতে গোসল করে বাড়ি ফিরছিলেন। লোকজনের ভিড় দেখে এগিয়ে গেলে বাল্কহেডের শ্রমিক ভেবে তাকেও আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের জেল দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, রুবেল সরদার বাল্কহেডের শ্রমিক নন বলে অনুনয়-বিনয় করলেও এসিল্যান্ড তার কথায় কর্ণপাত করেননি। স্ত্রী-চার সন্তানসহ ছয় সদস্যের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির জেল হওয়ায় পরিবারে চলছে আহাজারি।

এ বিষয়ে রুবেল সরদারের স্ত্রী সাবিনা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। দিনে এনে দিন খাই। আমার স্বামীকে কোনো দোষ ছাড়াই জেল দিয়েছে। এখন আমার সংসার চলবে কীভাবে। সরকারের কাছে এর বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেছেন, ‘রুবেল বাল্কহেডের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। সে পদ্মা নদীর বেঁড়িবাধ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। তার মতো একজন গরীব মানুষকে জেল দিয়ে এসিল্যান্ড ক্ষমতা দেখিয়েছেন।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. বাসিত সাত্তার বলেছেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত জনসম্মুখে পরিচালিত হয়। সেখানে রুবেলসহ তিনজনকে ধরা হয় এবং অভিযোগ বিবেচনা করে আইনানুযায়ী তিনজনকে একমাস করে জেল দেওয়া হয়। সে তার দোষ স্বীকার করেছে, তবে তার পরিবার যদি কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হয়, তবে আপিল করতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতুর বলেছেন, ‘রুবেলের পরিবারের দাবির বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ভ্রাম্য আদালতের নিয়ম অনুযায়ী অপরাধ শিকার না করলে সাঁজা হওয়ার কথা নয়। প্রমাণ নেই যে সে অপরাধে জড়িত ছিল না। তারপরও আমি তাদের বলেছি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে পারে।’

    শেয়ার করুন: