কোনো বোলারকেই পাত্তা দেন না, এটাই সূর্যবংশীর রহস্য

সংগৃহীত ছবি
চলতি আইপিএলে কোনো বোলারকেই তোয়াক্কা করছেন না রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। যশপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাদা কিংবা জশ হ্যাজেলউড- বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলারই এবার এই কিশোরের ব্যাটিং তাণ্ডবের শিকার হয়েছেন। গত বুধবার এলিমিনেটর ম্যাচে প্যাট কামিন্সকেও তুলোধুনো করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই সূর্যবংশীর এই ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের রহস্য নিয়ে চলছে গবেষণা।
গতকাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের সেই অতিমানবীয় ইনিংসের পর সূর্যবংশীর এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের মূল রহস্য ফাঁস করেছেন তারই রাজস্থান সতীর্থ ধ্রুব জুরেল। তিনি বলেছেন, ‘বৈভবের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা করে মাঠে নামে না। নেটে প্রচুর অনুশীলন করে এবং নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখে। ওর মনে বিন্দুমাত্র কোনো সংশয় থাকে না। কখনই ভাবে না যে— আমি এটা পারব না।’
সাধারণত তরুণ বয়সে যেকোনো ব্যাটার বলের চেয়ে বোলারের নামের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে স্নায়ুচাপে ভোগে। তবে সূর্যবংশী সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। জুরেল আরও বলেছেন, ‘আমরা যখন কোনো ক্রিকেট একাডেমিতে যাই, আমাদের শেখানো হয়— বোলারের দিকে না তাকিয়ে শুধু বলটি দেখতে। কিন্তু ১৭-১৮ বছর বয়সে আমরা যখন মাঠে নামি, অজান্তেই বোলারকে নিয়ে ভাবতে থাকি। কিন্তু বৈভব সত্যিই শুধু বলটি দেখে। ওর একটাই মূলমন্ত্র— বোলার কে, সেটা নিয়ে ওর বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’
বুধবারের ম্যাচে কামিন্স যখন লেগ-স্টাম্পের ভেতরে ফুল লেন্থ বল করে সূর্যবংশীকে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন, এই কিশোর মুহূর্তের মধ্যে পজিশন বদলে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরের শর্ট বলটিকে থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে এবং স্লোয়ার বলটিকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে ছক্কায় ওড়ান তিনি। মাত্র ৩ ওভারের মধ্যেই কামিন্সের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছিলেন সূর্যবংশী। ১২টি ছক্কা মেরে ভেঙে দিয়েছেন ক্রিস গেইলের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। গেইল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কিশোরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।







