পিএসএলে আলো ছড়ালেন মোস্তাফিজ-নাহিদ, বিবর্ণ রিশাদ

মোস্তাফিজ ৬ আর নাহিদ পিএসএলে পেয়েছেন ৫ উইকেট। ছবি: সংগৃহীত
এবারের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সুযোগ পাওয়া ছয় বাংলাদেশির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য অনাপত্তিপত্র পেয়েছিলেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। চোটের কারণে সবার আগে পিএসএল শেষ হয়েছে তারই। ইমনের দল লাহোর কালান্দার্স জানিয়েছে, চোট গুরুতর হওয়ার কারণে এবারের আসরে ইমনের আর খেলা হচ্ছে না।
প্রথমবার পিএসএল খেলতে যাওয়া ইমন লাহোরের হয়ে ৩ ম্যাচে ১৬১.৩৬ স্ট্রাইকরেটে ৭১ রান করেছেন। প্রথম ২ ম্যাচে সুবিধা করতে না পারলেও শেষ ম্যাচে ১৯ বলে ৪৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আরও পাঁচ বাংলাদেশি- মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিদ হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম দল পেয়েছেন এবারের পিএসএলে। তাদের অনাপত্তিপত্র আজ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এর একদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশিদের খেলা।
১৭ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার জন্য আজ রবিবার দেশে ফিরবেন তারা। ওয়ানডে সিরিজ শেষে আবারও পিএসএলে ফিরবেন মোস্তাফিজ। দেখে নেওয়া যাক এবারের পিএসএলে বাংলাদেশিদের পারফরম্যান্স।
মোস্তাফিজ লাহোরের হয়ে ৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার ইকোনমি রেট ৭.১৭ আর গড় ২০.৩৩। নাহিদ রানা পেশোয়ারের হয়ে ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ৪ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট তার সেরা। নাহিদের ইকোনমি রেট মাত্র ৫.২০।
নাহিদের সতীর্থ শরিফুল ৪ ম্যাচে ২ উইকেট নিলেও করেছেন কিপটে বোলিং। রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে খেলা রিশাদ এবারের আসরে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। ৪ ম্যাচে মাত্র ২ উইকেট সঙ্গে করেছেন খরুচে বোলিং।
চার ম্যাচে তিনি রান দিয়েছেন ৩৫, ৩৮, ৩৬ ও ৪৬! অথচ এবার বিগ ব্যাশ অভিষেকে নিজ দলের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন রিশাদ।পেশোয়ারের হয়ে তানজিদ এবার কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
শনিবার পিএসএলে মুখোমুখি হয়েছিল মোস্তাফিজের লাহোর এবং নাহিদ-শরিফুলদের পেশোয়ার। লাহোরকে ৭৬ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে পেশোয়ার। এই ম্যাচে মোস্তাফিজ ৩০ রানে ২ উইকেট, নাহিদ ১৫ রানে ২ উইকেট ও শরিফুল ১৭ রানে নেন ১ উইকেট।
গত ৩ এপ্রিল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মুলতানের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় সতীর্থ আসিফ আলির সঙ্গে সংঘর্ষে কাঁধে চোট পেয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। পরীক্ষায় দেখা গেছে কাঁধের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে ইমনের। আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে। এজন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তার খেলা অনিশ্চিত।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭,২০ ও ২৩ এপ্রিল মাঠে গড়াবে ওয়ানডে সিরিজ। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো হবে ২৭,২৯ এপ্রিল ও ২ মে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি সুস্থ হতে পারবেন কি না, সেটাই দেখার।

