দ্বিতীয় দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আশা সমঝোতার

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে। প্রথম দিনের ম্যারাথন বৈঠক শেষে আজ রবিবার দ্বিতীয় দিনেও অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের এই আলোচনা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনার পর দুই পক্ষ এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে করছে খসড়া প্রস্তাব বিনিময়। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি বড় ধরনের সমঝোতার।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হয় এই আলোচনা।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, বেশ কিছু জটিল বিষয়ে মতভেদ থাকলেও আলোচনার সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। এটাই বিশ্বজুড়ে তৈরি করছে নতুন আশার সঞ্চার।
ফারস ও তাসনিম জানায়, ‘প্রাথমিক আলোচনায় অগ্রগতি এবং লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতে জায়নিস্ট শাসনের হামলা কমে যাওয়ার ’পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আলোচনা শুরু করার।
দুই দেশের আলোচনার টেবিলে লক্ষ্য করা গেছে বেশ নাটকীয় পরিবর্তন। বৈঠকের শুরুতে ইরানি প্রতিনিধি দল এবং পরে মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছান নির্ধারিত স্থানে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পৃথকভাবে।
এরপর লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো চরম উত্তেজনাকর ও মতপার্থক্য থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনায় বসে দুই দেশ। আলোচনায় বরাবরের মতোই নিজেদের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরে ইরান।
বন্ধ দরজার ভেতরের আলোচনার খুব সামান্য তথ্যই এখন পর্যন্ত এসেছে বাইরে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেক চড়াই-উতরাই থাকলেও আলোচনার সামগ্রিক পরিবেশ ছিল বেশ ইতিবাচক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ‘পজিটিভ ভাইব’ দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রশস্ত করতে পারে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের পথ। আপাতত সবাই তাকিয়ে আছে দ্বিতীয় দিনের সিদ্ধান্তের দিকে।

