‘এই সময়ের হিটলার’ নেতানিয়াহুর ৫০০০ বছরের জেল চায় তুরস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির আরও ৩৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে তুরস্ক সরকার। ‘সুমুদ’ গাজা ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আনা হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে।
তুর্কি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৯৬ বছরের কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে জড়িত ছিলেন অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে সর্বনিম্ন ১ হাজার ১০২ বছরের।
অভিযুক্তদের তালিকায় আরও আছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুর্লেক বলেছেন, এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তুরস্কের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্ক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ একটি নৌযানে পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অন্য কর্মীরা। ছবিটি ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা বন্দরে তোলা।
জানা যায়, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ যাত্রা শুরু করে ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে। এতে কয়েক ডজন জাহাজে চেপে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের শত শত কর্মী।
ফ্লোটিলার ৪০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। যাদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ ইসরায়েলবিরোধী ও জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও। পরবর্তী সময়ে দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাদের বেশিরভাগকে।
ইসরায়েলি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগপত্র জমার পর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান নেতানিয়াহু, কাৎজ ও বেন-গভির। এরদোয়ান ইংরেজি বোঝেন কি না প্রশ্ন তোলেন বেন-গভির। পোস্টে ব্যবহার করেন অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দ।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে ইরানের সন্ত্রাসী শাসন ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে ইসরায়েল।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে কাগজের বাঘ বলে আখ্যা দিয়েছেন কাৎজ। বলেছেন, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এরদোয়ান।
‘আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ হাস্যকর।’
তুরস্কের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
পরবর্তী সময়ে শনিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে এই সময়ের হিটলার বলে উল্লেখ করেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মিথ্যা অভিযোগ আসলে তুরস্কের সত্য বক্তব্যের কারণে তাদের অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরীহ বেসামরিক জনগণের পাশে থাকবে তুরস্ক। নেতানিয়াহুকে তার কথিত অপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে চলবে প্রচেষ্টা।
সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট














