ঈদযাত্রায় ট্রাক উল্টে ১৫ জনের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ দাবি ক্ষেতমজুর সমিতির

ছবি: আগামীর সময়
ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। এ সময় সমিতি নিহত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতের দাবি জানায়।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিক্ষোভ সমাবেশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান। বক্তব্য দেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল ও রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসসহ শ্রমিক নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের প্রশ্নটি অবহেলিত থেকে যায়। সামান্য ভাড়া সাশ্রয়ের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হন দরিদ্র মানুষ। টাঙ্গাইলের এই দুর্ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ।
রুহিন হোসেন প্রিন্সের ভাষ্য, ট্রাক উল্টে ১৫ জন ক্ষেতমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা দেয়নি। কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হলেও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
তিনি যোগ করেন, এসব মানুষ শুধু নাড়ির টানে বাড়ি যান না, বরং সীমিত আয়ের কারণে কম খরচে যাতায়াতের উপায় খুঁজতে বাধ্য হন। শহরে কাজ বন্ধ, গ্রামে পরিবার অপেক্ষায়। ফলে কম ভাড়ায় রডবোঝাই ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। সরকারের কার্যকর উদ্যোগ থাকলে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিতে হতো না।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফজলুর রহমান জানালেন, গ্রামে সারা বছর কাজ না থাকায় জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষ শহরে আসেন। আবার ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া ও নিরাপদ পরিবহনের অভাবে তারা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চলাচল করতে বাধ্য হন।
তিনি নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং আহতদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা বললেন, দেশের দরিদ্র শ্রমজীবী ক্ষেতমজুররাই উৎপাদন ও শ্রমের মাধ্যমে দেশকে সচল রাখছে। করোনাকালেও তারাই মাঠে-ঘাটে কাজ করে সমাজ ও অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। কৃষক-ক্ষেতমজুরের কারণেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় আছে। অথচ তাদের সারা বছর কাজ, খাদ্য ও নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা নেই।
রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের মতে, প্রতিবছর ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমজীবী মানুষ মারা যান। যেখানে বাসের ছাদে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ, সেখানে রডবোঝাই ট্রাকে করে এত মানুষ মহাসড়ক পার হলো কীভাবে? এসব কেন ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসে না?
সমাবেশ থেকে নেতারা সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ঈদে শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত, নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণের দাবি জানান।






