সরাইলে ২৬০ রকম চা বানিয়ে চমক দেখালেন আশিক

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে এক দোকানেই মিলছে ২৬০ স্বাদের চা। ‘আশিক টি শপ’-এর কর্ণধার আশিক সাধারণ দুধ চা আর লিকারের বাইরে গিয়ে মশলা, ফল, বাদাম, তেঁতুল, ভেষজসহ নানা উপাদানে এই ভিন্ন স্বাদের চা তৈরি করে চমক দেখিয়েছেন।
অভিনব স্বাদের কারণে দোকানটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের চা-প্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত স্টল আর সাইনবোর্ডে টাঙানো চায়ের নাম ও দামের দীর্ঘ তালিকা।
প্রতিদিন অন্তত পাঁচ থেকে ছয়শ দর্শনার্থী আসেন বাহারি চায়ের স্বাদ নিতে। বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চা। ২৬০ পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে বাদামি চা, শাহী মালাই, চকলেট মালাই, সাধারণ মালাই, বুলেট কফি, তুর্কি চা, ডায়াবেটিক চা, রোজেলা, মাল্টা, তেঁতুল ও মসলা রং চা।
আশিক জানান, ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিও দেখেই তিনি দেশ-বিদেশের নানা রেসিপির ধারণা পান।
দোকানের যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। শাহবাজপুরের দ্বিতীয় গেট এলাকায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তামান্না মিয়ার বাড়ির পাশে প্রথম দোকান চালু হয়। পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য দোকানপাট উচ্ছেদ হলে ২০২৩ সালে একই গ্রামের প্রথম গেট এলাকায় বর্তমান ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়।
চায়ের সুনাম ছড়িয়েছে আশপাশের জেলাতেও। নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও ভৈরব থেকে লোকজন আসেন স্বাদ নিতে।
ধরনভেদে প্রতি কাপ চায়ের দাম ১০ থেকে ১৫০ টাকা। সাইনবোর্ডের তালিকা অনুযায়ী, তুর্কি ব্ল্যাক কফি ১৫০ টাকা, চকলেট ক্যাপাচিনো ১০০ ও ৮০ টাকা। চায়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম শাহী মালাই ১০০ টাকা, চকলেট মালাই ৮০ টাকা, সাধারণ মালাই ৬০ টাকা, রোজেলা ৫০ টাকা, তেঁতুল চা ৪০ টাকা, লেমন-মাল্টা ৪০ টাকা ও মসলা চা ২০ টাকা।
শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রচণ্ড ভিড় থাকে। উৎসব-পার্বণে জায়গা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের এই আগমনে দোকানটি নিছক চায়ের আড্ডা নয়, স্বজন-বন্ধুদের মিলনমেলায় রূপ নেয়।
আশিক বললেন, 'এলাকার বাইরে ভিন্ন জেলা থেকে লোকজন আমার চা খেতে আসেন, এটা খুবই আনন্দের। ব্যবসার মাধ্যমে দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে পরিচয় বাড়ছে, সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে, এটাও বাড়তি পাওনা।'
কীভাবে এই ব্যবসায় এলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবারের হাল ধরতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ছোটবেলা থেকেই চায়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই নানা রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬০-তে। চায়ের আয়েই সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।
আশিক টি শপের কর্ণধার আশিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের মৃত আলী হায়দার মিয়ার ছেলে। পরিবারে আছেন মা, স্ত্রী, এক মেয়ে, পাঁচ বোন ও দুই ভাই।
গত ২৩ মে শনিবার সন্ধ্যায় দোকানে আসা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. বোরহান উদ্দিন আগামীর সময়কে জানান, এমন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই করতে সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।






