চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক
নারী তরুণদের সংযুক্ত করা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা আমার অগ্রাধিকার

সংগৃহীত ছবি
মোহাম্মদ আমিরুল হক বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান এবং সেখানকার ইউনিয়ন অব কামব্রিয়া থেকে লিডারশিপ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফেরেন।
পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮২ সালেই শিপিং-ইনডেনিটিং দিয়ে ব্যবসা শুরু। চার দশকে তার ব্যবসার পরিধি শিপিং, লজিস্টিকস, সিমেন্ট, কৃষি ও খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত, ভোজ্যতেল, জ্বালানি, আবাসন খাতে আছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার লেনদেন বছরে, এক হাজার ৫০ কোটি টাকা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেন। তিনি সী কম গ্রুপের চেয়ারম্যান। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২৩ মে নির্বাচনে আমিরুল হকের নেতৃত্বের পুরো প্যানেল বিজয়ী হন। ২৫ মে পরিচালকদের ভোটে তিনি সভাপতি হন। তার রানিংমেট সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপন।
সর্বশেষ ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক ছিলেন এখন ৪৬তম চেম্বার প্রেসিডেন্ট হয়েই ফিরলেন। ৬৩ বছর বয়সি আমিরুল হকের দুই ছেলে, দুই মেয়ে।
দুপুরে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বসে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আগামীর সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সিদ্দিকী।
আগামীর সময় : ১৮ বছর পর চেম্বারের দায়িত্বে ফেরার অনুভূতি কেমন?
আমিরুল হক : অভূতপূর্ব। এভাবে ফিরবো চিন্তায় ছিল না। হটসিটের (চেয়ারের গরম বা ক্ষমতার দাপট) টেম্পার (নিজেকে সংযত রাখা) যাতে ধরে রাখতে পারি সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। এককথায় ক্ষমতার গরম যাতে আমাকে পেয়ে না বসে কখনো।
আগামীর সময় : কিভাবে কাজ শুরু করতে চান?
আমিরুল হক : আমি এবং আমার ২৪ পরিচালকদের প্রথম কাজ হচ্ছে চট্টগ্রাম চেম্বারের কার্যক্রমকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। চেম্বারকে ফিনান্সিয়ালি সাউন্ড করা। ২৪/৭ কাজ করা। চট্টগ্রাম চেম্বারকে এআই’র মতো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে রিশেইপ বা নতুনভাবে গড়তে হবে। তৃণমূল ব্যবসায়ীদের সমস্যা জানতে আমরা চট্টগ্রাম চেম্বারে প্রথমবার ওপেন ডে সেশন চালু করবো। মিডিয়ার সাথে বসে চট্টগ্রামের প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো বুঝবো, এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবো। চট্টগ্রাম চেম্বারকে একটি রিশেইপ ফরম্যাটে নিতে তরুণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের বিশাল অংশকে আমাদের সাথে সংযুক্ত করবো।
আগামীর সময় : চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালনা নিয়ে আপনার বার্তা কী?
আমিরুল হক : আমি একটি ফিলোসপিতে বিশ্বাস করি, ‘দল যার যার চেম্বার কিন্তু আমাদের সবার’। এখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব দলের মতবাদে বিশ্বাসী ব্যবসায়ী আছেন। কিন্তু চেম্বারে যখন আমরা আসি তখন ব্যবসায়ীই আমাদের প্রথম-বড় পরিচয়। আমরা ব্যবসায়ী হিসেবেই প্রতিনিধিত্ব করবো।
আগামীর সময় : ব্যবসায়ীক ঐতিহ্য ফেরাতে আপনি কী করবেন?
আমিরুল হক : আমি বাস্তব, অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়ে আগাবো। রাজনৈতিক দলের মতো কাজ করবো না। যেমন পরিবেশের কথা বলে চট্টগ্রামের শিপ বিল্ডিং, শিপ ব্রেকিং বন্ধ করে দিবেন সেটি মানবো না। হ্যাঁ, পরিবেশসম্মতভাবে এই সেক্টরকে আগানো নিয়ে ফাইট করবো। বাজেট প্রস্তাবনা, রাজস্ব নীতি এবং শিল্প নীতি তৈরিতে চট্টগ্রাম চেম্বার যেন গবেষণানির্ভর তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে সেই থিংক ট্যাংকারের ভূমিকায় ফেরাবো।
আগামীর সময় : এরকম ফাইট করে দাবি আদায় কতটা চ্যালেঞ্জিং?
আমিরুল হক : আমি কোন ট্রেড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট না আবার বার্গেইনিং এজেন্টও না। পেশাজীবী সংগঠনও না। আমি ব্যবসায়ী সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট। ফাইট করে দাবি আদায় চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়।
আগামীর সময় : আপনি কি আগের মতোই স্বোচ্চার থাকবেন?
আমিরুল হক : অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে নির্ভয়ে সংকোচ ছাড়াই আমি কথা বলবো। আমি চট্টগ্রাম চেম্বারের দায়িত্বে এসেছি লোভে পড়ে নয়। কোন কিছু ব্যক্তিগত লাভবান হতেও নয়। আমি বর্তমান সরকার, তার নেতৃত্বকে বোঝাবো, বারবার বোঝাবো, লেগে থাকবো। দাবি আদায় করেই ছাড়বো।
আগামীর সময় : দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ওতরানো না গেলে?
আমিরুল হক : এখন সুসময়। সরকার-ব্যবসায়ী-প্রশাসনে এত কানেকটিভিটির পরও যদি চট্টগ্রামের ট্রেড-ইকনোমির জন্য কিছু করতে না পারি সেটি হবে আমার ব্যর্থতা। আমি ততক্ষণই এই প্রেসিডেন্টের চেয়ারে থাকবো যতক্ষণ ডিগনিটির সাথে কাজ করতে পারবো। ডিগনিটি নেই তো আমি নেই।
আগামীর সময় : নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো প্রতিপক্ষকে কী বলবেন?
আমিরুল হক : উনারা হয়তো না বুঝে রাগ করে চলে গেছেন। আমার মতো উনাদেরও মায়া-দরদ চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতি। নির্বাচন পর্যন্ত ছিলেন কিন্তু এখন উনারা আর আমার প্রতিপক্ষ নন। আমি আশা জাগানিয়া মানুষ, তাই আহ্বান জানাচ্ছি উনারা চট্টগ্রাম চেম্বারের কাজে নয়, দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের সাথে থাকবেন।
আগামীর সময় : চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি থেকে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার নজির অনেক? আপনার কি সেই স্বপ্ন নেই?
আমিরুল হক : আমার সেই খায়েশ এখন পর্যন্ত নেই। মা আমাকে দুটি বিষয়ে বারণ করেছেন। একটি মিডিয়া ব্যবসা অন্যটি ব্যাংকের মালিকানায় না যাওয়া। আমি সেই নীতিতেই আছি।






