সবচেয়ে দামি গরু ‘স্টার বয়’ দাম ২১ লাখ ওজন এক টন!

ছবি: আগামীর সময়
গরুর দাম আগে শুনবেন? নাকি নাম আগে শুনবেন? দুটোই বেশ ইন্টারেস্টিং। দাম উঠেছে ২১ লাখ টাকা। ১১০০ কেজি অর্থাৎ এক টনের বেশি বিশালাকৃতির এই গরুর নাম ‘স্টার বয়’। খুব সম্ভবত চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারে এটিই সবচেয়ে দামি ও বড় গরু। ১১০০ কেজি থেকে ৪০ শতাংশ চামড়া, নাড়িভুঁড়ি, হাড়গোড় বাদ দিয়ে পাওয়া যাবে ৬৬০ কেজি মাংস, হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ মণ। সে হিসেবে প্রতি কেজির দাম ৩ হাজার ১৮২ টাকা। কিন্তু কোরবানি বলে কথা। দাম এখানে বড় কোনো বিষয় না।
গরুর নাম কেন স্টার বয়? এমন প্রশ্নে সারাহ এগ্রোর মালিক আলিফ আহসান চৌধুরী বললেন, ‘সাড়ে তিন বছর আগে সিরাজগঞ্জ থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনার পর বোঝা যাচ্ছিল এর জাতই আলাদা। বড় হয়ে সে কিছু একটা হবে। তাই অর্থবহ একটি নাম দেওয়া যার বাংলা ‘তারকা বালক’।
দামেরও একটি ব্যাখ্যা দিলেন ২৫ বছর বয়সী আলিফ, ‘এই সাড়ে তিন বছরে স্টার বয় খাবার খেয়েছে সাড়ে ৯ লাখ টাকার। কেনা ও খাবার বাবদ খরচ হয়েছে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সাড়ে তিন বছর লালন-পালন ও অন্যান্য খরচ তো আছেই।’ প্রতিদিন স্টার বয় দেখভাল করত দুজন কর্মী। খাবার খেত প্রতিদিন ২২ কেজি দানাদার আর ২৫ কেজি ঘাস।
কুচকুচে কালো রঙের আমেরিকান ব্রাহামা ও পাকিস্তানের শাহিওয়ালের ক্রস প্রজাতির এই গরুর দাম ওঠেছে ২১ লাখ টাকা! কিন্তু বিক্রি করতে আলিফের মন সায় দেয়নি। নিজেরাই লালন-পালন করেছে বলে মায়া জন্মেছে। তাই নিজেরাই কোরবানি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আলোচিত ১০ (২৫ মে ২০২৬)
২৫ মে ২০২৬
স্টার বয়ের মতো আলিফও বেশ ইন্টারেস্টিং। দেশের নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিটাগাং গ্রামার স্কুলে (সিজিএস) পড়ার সময় ১৩ বছর বয়সেই খামারের সঙ্গে যুক্ত হন তার ব্যবসায়ী বাবার হাত ধরে। ১৭ বছর বয়সে পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। গত ৮ বছর ধরে একা লেগে আছেন এই ব্যবসায়। এবার ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগে ছোট-বড় ৫৫০টি গরু কোরবানিতে বিক্রির জন্য লালন-পালন করেছেন। ১৭টি বাদে বাকি সব গরু আজ বিকালের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এখন সব ডেলিভারির অপেক্ষায়। ৮টি ট্রাকে করে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলে ডেলিভারি।
এ ব্যবসার ভবিষ্যত সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা এভাবে তুলে ধরলেন আলিফ, ‘শখে অনেকে এই ব্যবসা করেন। কিন্তু খুব বেশি যে লাভ হয় তা-না। কেউ যদি হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাহলেই এ ব্যবসা থেকে লাভ করা যাবে।’
আলিফের বাবা আহসান ইকবাল চৌধুরী জানালেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পশুপাখির প্রতি আলিফের খুব দরদ। এই আগ্রহ দেখে আমরা পরিবার থেকে তাকে খামার ব্যবসায় উৎসাহ দিতে শুরু করি। এখন দিনরাত তার ধ্যান ধারণা এই এগ্রো ফার্মের গরু।’







