টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় নিহত নওগাঁর ৯ জনের মরদেহ নিজ গ্রামে

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত নওগাঁর ৯ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে করা হয়েছে হস্তান্তর। রবিবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতদের মধ্যে মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়ন পরিষদের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক (২১), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৪), আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা মিয়া (২৮), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), সাকিমের ছেলে সাগর (২২) ও শহিদুলের ছেলে রবিউল (২৬)।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গ্রামের পাশের একটি মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পাশাপাশি কবর খুঁড়ে করা হবে দাফন।
এদিকে পাশের পাকুরিয়া গ্রামের দুই সহোদর মাইনুল (২৭) ও গিয়াস উদ্দিন (৩০) এবং মুশিদপুর গ্রামের মইনুর (৩০)-এর মরদেহ রাতেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে করা হয়েছে দাফন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, নিহতদের দাফনের ব্যয় বাবদ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ভাঁরশো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিব নদীর তীরে গড়ে ওঠা রাজেন্দ্রবাটি, পাকুরিয়া ও মুশিদপুর গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার মৎস্যজীবী এবং অধিকাংশই দরিদ্র। জীবিকার তাগিদে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাইকেলে প্লাস্টিক পণ্য ফেরি করে বিক্রি করেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পুনর্বাসনের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, সাইকেলে করে দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল, ভাঙা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের ১০ ব্যক্তি। সর্বশেষ তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর এলাকায় ফেরি করে পণ্য কেনাবেচার কাজ করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। পথে ট্রাক উল্টে ওই ১০ ফেরিওয়ালাসহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।







