২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন রৌমারী-রাজিবপুর, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সেবাও প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে জরুরি যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার রাত ৯টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে রাত ৯টার দিকে অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরা। অটোভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘কারেন্ট না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। গাড়ি নিয়ে বের হতেও পারছি না। সামনে ঈদ, এই সময়ে আয়-রোজগারের কথা থাকলেও এখন বসে থাকতে হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই দিনে-রাতে মিলিয়ে খুব অল্প সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছি। সেটাও বারবার চলে যাচ্ছে। অথচ মাস শেষে অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে।’
ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মামুন বলেন, ‘বাস থেকে নেমে দেখি কোনো অটোগাড়ি নেই। বউ-বাচ্চা নিয়ে হেঁটে বাড়ির পথে রওনা হলাম।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকেই।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। কয়েকটি স্থানে খুঁটিও ভেঙে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় রৌমারী ও রাজিবপুরে। ফলে ছোট-বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগেও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। তার ভাষ্য, এ অঞ্চলে একটি সাবস্টেশন থাকলে হয়তো এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।






