সব বাধা পেরিয়ে
এক হাত হারিয়েও থামেনি অর্ণব

অর্ণব
যে ডান হাত দিয়ে এতদিন খাতায় লিখেছে অর্ণব, সেই হাতটি এখন নেই। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে তিনতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসায় প্রাণে বেঁচে ফিরলেও হারাতে হয়েছে ডান হাত। কিন্তু একটি হাত হারালেও থামেনি তার পড়াশোনা, থামেনি স্বপ্ন দেখা। বাঁ হাতে নতুন করে লেখার অভ্যাস গড়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়েছে মুহতাসিম ইশরাক অর্ণব।
অর্ণব সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে একপর্যায়ে কেটে ফেলতে হয় তার ডান হাত।
দুর্ঘটনার পর পড়াশোনায় ফিরতে অর্ণবকে লড়াই করতে হয়েছে নতুন করে। যে হাতে লিখতে অভ্যস্ত ছিল, সেই হাত না থাকায় বাঁ হাতে কলম ধরতে শুরু করে সে। এক বছরেরও কম সময়ে বাঁ হাতে লেখার অভ্যাস তৈরি করে আবার মনোযোগ দেয় পড়াশোনায়। পরিবারের সদস্যরাও তাকে সাহস ও সহযোগিতা দেন।
অর্ণবের এসএসসি ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত তার বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা কাকলী বেগম। ছেলের এমন সাফল্যে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। বাবা জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘একটি হাত হারানোর পরও অর্ণব পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তার এই ফল শুধু পরীক্ষার ফল নয়, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের ফল। আমরা ছেলেকে নিয়ে গর্বিত।’
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, ‘বাঁ হাতে লিখতে অভ্যস্ত হওয়ায় অর্ণবের লেখার গতি কিছুটা কমে গেছে। এরপরও সে ভালো ফল করেছে। তার অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’




