এসএসসির ফল বিপর্যয়
৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনকে বাছাই, পাস করেনি কেউ

পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের একটি স্কুলে ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে মাত্র ৭ জনকে বাছাই করা হয় পরীক্ষার জন্য। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেলো ৭ জনের কেউই পাস করেনি।
এ ঘটনাটি ঘটেছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। গত সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
২০০১ সালে ওই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পশ্চিম রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠা করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০১৬ সালে নাম পরিবর্তন করে তৎকালীন সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ এর নাম সংযুক্ত করে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পাঠদানের অনুমতি পেলেও এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি বিদ্যালয়টিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক শাহাদাত হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
শাহাদাতের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ১৮ জন শিক্ষক আছেন। তবে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বেতন-ভাতা পান না শিক্ষকরা। এ জন্য বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না বেশিরভাগ শিক্ষক। মাত্র ৬ থেকে ৭ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
তিনি বললেন, ‘আমরা বাছাই করে ৩৪ জনের মধ্য থেকে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি। যারা পিএসসি ও জেএসসিতে ভালো ফলাফল করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের মধ্যে ৩ জন ভূগোলে এবং বাকী ৪ জন ইতিহাসে ফেল করেছে। বাংলা ও গণিতের মতো কঠিন বিষয়ে পাশ করেও এই বিষয়গুলোতে কিভাবে ফেল করলো বুঝতে পারছি না।
শাহাদাত জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে খাদিজাকে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া দেননি তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহিউদ্দিন জানান, বিদ্যালয়টি নন এমপিওভুক্ত হওয়ার শিক্ষকদের নিয়োগ ও বেতন ভাতার বিষয়টি সভাপতিসহ অন্যান্যরা দেখছেন। বেতন-ভাতা না থাকায় অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে আসেন না বলে শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





