টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি রুবেল, আরিফুল, সাব্বির

টুর্নামেন্টে ২৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার বাংলাদেশের রুবেল। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে কিছুদিন আগেই ইতিহাস গড়া সাফল্য এসেছিল টেস্টে। সেখানেই আরেকটি সাফল্য পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল বাংলাদেশ এইচপি দল। কিন্তু সেমিফাইনালের বাধা টপকাতে পারল না তারা।
ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বিপক্ষে ১ উইকেটের হারে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির যাত্রা থামল বাংলাদেশের। আগে ব্যাট করে মাত্র ১০১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ১৯.৪ ওভারে শেষ উইকেট হাতে রেখে ১০৫ রান করে ভিক্টোরিয়া। দুর্দান্ত খেলে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন জাগালেও শেষটা ভালো হলো না এইচপির।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯ দলের এই টুর্নামেন্টে মোট ৭ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ এইচপি। লিগ পর্বে ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জয় পেয়েছে দল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় দলসহ একসঙ্গে এত ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলায় ব্যস্ত। ইমার্জিং দল ও ‘এ‘ দল খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। হাই পারফরম্যান্স খেলেছে অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল কিছুদিন আগে খেলেছে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে।
এত খেলার মাঝে জাতীয় দলের বাইরে প্রায় ৩৫ এর বেশি ক্রিকেটারের খেলার মধ্যে আছেন। এই খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়েই নিজেকে আবারও স্পটলাইটে ফেরালেন সাব্বির রহমান, যুব পর্যায়ে দারুণ করা আরিফুল নিজেকে চিনিয়েছেন আবারও। পাশাপাশি রহস্য স্পিনার হিসেবে ইতিমধ্যেই নাম করে নিয়েছেন মোহাম্মদ রুবেল। এই তিন ক্রিকেটারই ভালো করেছেন টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে।
৭ ম্যাচে ২৩ উইকেট শিকার করে লিগে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে রুবেল। ৭ ম্যাচে দুই ফিফটিতে ১৩৮.৬০ স্ট্রাইকরেটে ২১৯ রানে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় তৃতীয় আরিফুল। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে ১২৪.৩২ স্ট্রাইকরেটে ১৮৪ রান করে পাঁচে সাব্বির রহমান। তার ঝুলিতেও আছে দুটি ফিফটি।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এই তিন ক্রিকেটার। নতুন বোর্ডের অধীনে বেশি খেলা থাকায় সব দলকে কাজে লাগাতে পারার আনন্দ ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান শাহরিয়ার নাফীসের, ‘এটা খুবই ভালো দিক যে আমাদের সবগুলো দল এখন মাঠে। এতে সব ক্রিকেটাররা এতদিন যে খেলা না থাকার হতাশায় থাকতো তা কাটিয়ে উঠেছে। এজন্যই দেখবেন সাব্বির রহমান, আরিফুলের মতো ব্যাটাররা ভালো করেছে। আর রুবেল এই আসর থেকে আমাদের সেরা প্রাপ্তি।’
শাহরিয়ার নাফীসের আক্ষেপ ব্যাটারদের রান না পাওয়া। টপ এন্ডে আরও বেশি ব্যাটাররা নিজেদের পারফরম্যান্স দেখালে রানের দিক থেকে ভালো করতো দল, এমনটাই মনে করেন সাবেক এই ওপেনার।
এদিকে একসঙ্গে এত দলের খেলা হওয়ায় ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকটাও প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘একসঙ্গে এত দল খেলানোয় সমস্যা হয়েছে দল গোছানোয়। যেমন এবার ‘এ’ দলটা ঠিক মন মতো করে ওঠা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ভালো দিকটাই বেশি। কারণ সব ক্রিকেটাররা বড় পর্যায়ে খেলতে পারছে। এতে তাদের যে ভালো করার স্পৃহা, চেষ্টা সেটা কঠিন পর্যায়ে প্রকাশ পাচ্ছে। বেশি থেকে বেশি ক্রিকেটার নিজেদের মেলে ধরা বা নিজেদের ক্রিকেটটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।’







