ফিল সিমন্স
হৃদয় পরিণত টেস্ট ইনিংস খেলেছে

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন বাংলাদেশের ক্রিকেট একক নাটক মঞ্চস্থ করলেন তাওহীদ হৃদয়। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, তখন সেখান থেকে দলকে শুধু ঘুরেই দাঁড় করাননি, বরং প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড এনে দিয়েছেন এই ব্যাটার। ৩৫৯ বলে ২২ চার ও ১১ ছক্কায় অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়।
হৃদয়ের এমন ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই ইনিংসকে ‘অসাধারণ’ এবং শেষ পর্যন্ত ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ইনিংস। শেষ পর্যন্ত এটি অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস। সীমানায় ফিল্ডার থাকার পরও সে বাউন্ডারি ও ছক্কা বের করতে পারছিল। এমনকি ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও, ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও সে যেভাবে খেলেছে, সেটি ছিল অসাধারণ।’
শুধু রান করার দিক থেকেই নয়, পরিস্থিতি বুঝে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের ধরনেও মুগ্ধ কোচ। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন সতীর্থদের স্ট্রাইক দিতে হবে—সবকিছুই নিখুঁতভাবে সামলেছেন বলে মনে করেন তিনি।
সিমন্সের ভাষায়, ‘খেলাটা বোঝা, কোন শট খেলতে হবে সেটা জানা, কখন শেষ তিন ব্যাটারকে স্ট্রাইক দিতে হবে—সবকিছুই সে এই ইনিংসে অসাধারণভাবে করেছে।’
ঢাকা টেস্টে হৃদয়ের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কিছুটা আক্রমণাত্মক শট খেলে আউট হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল তার জায়গা নিয়েও। মুমিনুল হক ফিট থাকলে এই টেস্টে হৃদয়ের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু সিলেটে সেই হৃদয়ই খেললেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস।
তবে সিমন্স মনে করেন, ঢাকার ব্যর্থতা দিয়ে হৃদয়কে বিচার করা ঠিক হবে না। ‘সে পুরো সময়ই ভালো ব্যাটিং করছিল। ঢাকায় কয়েকটি রাশ শট খেলেছিল, কিন্তু সেটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। আমরা সেটা তার বিরুদ্ধে ধরে রাখতে পারি না। আমার মনে হয়, সে খুব দ্রুত পরিণত হচ্ছে এবং আজ আমরা সেটাই দেখেছি,’ বলেন তিনি।
প্রথম সেশনে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পরও হৃদয়ের এমন ইনিংসের সম্ভাবনায় বিশ্বাস ছিল দলের। সিমন্স বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে এমন খেলোয়াড় আছে যারা ব্যাট করতে পারে। এখানে গতবারও লিটন একই রকম পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের জন্য সেঞ্চুরি করেছিল। তাই আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, পরের ব্যাটার এসে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজটি করতে পারে।’
হৃদয়ের এই মহাকাব্যিক ইনিংসে অবশ্য সঙ্গী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। অষ্টম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ১১৭ এবং নবম উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। সিমন্সও তাদের অবদানের প্রশংসা করেছেন।
‘তাদের অবদান দারুণ। আমরা বোলারদের সবসময় বলে আসছি, কোনো ব্যাটারের সঙ্গে জুটি হলে সেখানে টিকে থাকতে হবে, ব্যাটারের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তারা ঠিক সেটাই করেছে, যেটা আমরা অনুশীলনে করে আসছি। ব্যাটারদের সমর্থন দেওয়াটাই ছিল আমাদের পরিকল্পনা,’ বলেন সিমন্স।
শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের ২৪২ শুধু বাংলাদেশের স্কোরকার্ড বদলায়নি, বদলে দিয়েছে পুরো ম্যাচের চিত্রও। একসময় যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ছিল, সেখানেই তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বাংলাদেশ।



