ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
নিয়ম ভেঙে আউট হওয়া ব্যাটারকে ফেরত আনলেন আম্পায়ার

ফাইল ছবি
ক্রিকেটে ভুল সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়। ভুলভাবে আউট হওয়ার পর অধিকাংশ ব্যাটসম্যান হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন। কেউ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, কেউ আবার প্রতিবাদও করেন। কিন্তু সাধারণত আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর ব্যাটসম্যান মাঠ ছেড়ে চলে গেলে তাকে ফেরানোর সুযোগ থাকে না। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অবশ্য ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঘটনা।
বাসেতেরেতে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস ও বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের ম্যাচে বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পরও ফিরিয়ে আনা হয় জনসন চার্লসকে। আর দ্বিতীয় জীবন পেয়ে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন তিনি।
চতুর্থ ওভারে র্যামন সিমন্ডসের করা একটি হাই ফুলটসে ক্যাচ আউট হন চার্লস। মাঠের আম্পায়ার বলটিকে নো বল না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত মেনে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তখন চার্লসের সংগ্রহ ছিল ১৫ বলে ২৬ রান।
পরে দর্শকদের প্রতিবাদ এবং প্যাট্রিয়টস দলের আপত্তির পর ঘটনাটি টেলিভিশন আম্পায়ারের কাছে যায়। টিভি আম্পায়ার কার্ল টাকেট রিপ্লেতে দেখে বলটিকে নো বল ঘোষণা করেন এবং মাঠের আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত বদলে দেন।
তবে ততক্ষণে চার্লস মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ক্রিকেটের আইনে ভুলভাবে আউট দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। তবে তিনি মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে। চার্লসের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হয়।
তবু চার্লসকে আবার ব্যাট করতে পাঠানো হয়। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন ও চার্লসের ক্যাচ নেওয়া শেরফেন রাদারফোর্ড। তারা আম্পায়ারদের কাছে নিজেদের অসন্তোষও জানান। কিন্তু একবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর সেটি আর দ্বিতীয়বার বদলানো হয়নি।
এরপরই ট্রাইডেন্টসের হতাশা আরও বাড়ান চার্লস। নো বল থেকে ছক্কা মারার পর দ্বিতীয় সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্যাট্রিয়টসের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। ২১৭ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল হাতে রেখে ছয় উইকেটে জিতে যায় তার দল।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক গ্রিন। তার মতে, ম্যাচটি আম্পায়াররা ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারেননি এবং একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়ার পর তাকে আবার ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত।
প্যাট্রিয়টস অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আম্পায়ারদের জন্য এটা হয়তো আরও দৃঢ় ও সিদ্ধান্তে পরিষ্কার হওয়ার একটি সতর্কবার্তা। একজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর আবার তাকে ফিরিয়ে আনা খুবই অগোছালো একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চার্লস অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন, ‘কিছু বিতর্ক খেলাটাকে আরও জমিয়ে তোলে। সবকিছুই শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারদের ওপর নির্ভর করে।’





