পাসপোর্টই ছিল না
পাকিস্তানি পেসারের স্মরণীয় অভিষেক

ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারের পর বিপর্যস্ত পাকিস্তান দলে বয়ে গেছে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঝড়। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলের পাশাপাশি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন সাতজন ক্রিকেটার। সেই রদবদলের সুযোগে রাতারাতি জাতীয় দলে ডাক পান তরুণ পেসার রাজাউল্লাহ। অভিষেকেই জো রুটের উইকেট নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বল হাতে নেমেছিল পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন খাইবার পখতুনওয়ার মার্দান থেকে উঠে আসা এই তরুণ পেসার। নিজের চতুর্থ বলেই ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে জো রুটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। স্লিং অ্যাকশনে করা সেই সোজা ও স্কিডি বলটির কোনো জবাবই ছিল না ইংলিশ অধিনায়কের কাছে। দিনের খেলার শেষভাগে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ওপেনার এমিলিও গেকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরেন রাজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ২৩ ওভার বল করে ১৪৮ রান খরচায় রাজা নিয়েছেন মোট ৪ উইকেট। তার বাকি দুই শিকার জেমি স্মিথ এবং ওলি রবিনসন। মাত্র ১০ মাস আগে পেশোয়ারের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে পা রাখা এই তরুণ পেসার ঘরোয়া পরিমণ্ডলে খুব বেশি পরিচিত না হলেও তার ১৪৫ কিলোমিটার গতি তোলার ক্ষমতা নজর কেড়েছিল সবার। দলের বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে রাজাউল্লাহর এই দুর্দান্ত অভিষেক পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য এক টুকরো স্বস্তি হয়ে এসেছে।
তবে রাজার রূপকথার শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। তার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পেছনের গল্পটি আরও রোমাঞ্চকর। পিটিএসের তথ্য অনুযায়ী, যখন তাকে হঠাৎ টেস্ট দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তখন তার কাছে কোনো পাসপোর্টই ছিল না! এমনকি গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় নির্বাচকদের ফোনকল মিস করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বেশ বেগ পেতে হয়।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে রাজার বোলিং দেখেছিলেন পাকিস্তানের নির্বাচকরা। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত পিসিবির হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদের বিশেষ উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট তৈরি করে তাকে যুক্তরাজ্যে উড়িয়ে নেওয়া হয়। রাজার দারুণ বোলিংয়ের পরও ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান তুলেছে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান।





