৭ সারথি
সরকারের আয় বাড়াতে ভ্যাট চালু করেন সাইফুর রহমান

এম সাইফুর রহমান (৬ অক্টোবর ১৯৩২ – ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯)
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করার কৃতিত্ব একমাত্র এম সাইফুর রহমানের। তিনি যে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখেছেন, এটি তার একটি নমুনাও বটে।
দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। আর তার সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলো হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে সারাবিশ্বে যখন নয়া উদারতাবাদের ঢেউ, ঠিক সে সময় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তিনি বিশ্বায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন বাণিজ্য উদারীকরণ করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।
তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০০৩ সালে তিনি টাকা ও ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেন। একই সময়ে ব্যাংক খাতের বেশ বড় কিছু সংস্কারও করেন তিনি। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে চালু করেন ভ্যাট।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিশ্বায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন তিনি
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আলোচিত এই অর্থনীতিবিদের শুরুটা ছিল বেশ ঘটনাবহুল। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে পাড়ি দেন লন্ডনে। সেখানে পড়াশোনা করেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টে (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস)। এরপর ১৯৬২ সালে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন যুক্ত্যরাজ্যে। আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতেও বিশেষায়িত শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
সাইফুর রহমান পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনেও কাজ করেছেন সদস্য হিসেবে। তা ১৯৬৯ সালের কথা। প্রাইভেট সেক্টর থেকে একমাত্র মনোনীত সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনেরও সদস্য ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধ ও অনুপ্রেরণায় ১৯৭৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। এভাবে একজন ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি তৈরি হতে থাকেন। পরে ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় এম সাইফুর রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হোন।
দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিলেন সক্রিয়। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন, এশিয়া ও প্যাসিফিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও আইএফএডে গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে মাদ্রিদে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলনে সভাপতিত্ব করা তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।
২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এম সাইফুর রহমান।




