Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
১৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন রিকশাচালক রেজাউল
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাকাত

সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে যাকাতের অবদান

মুফতি সাইফুল ইসলাম
মুফতি সাইফুল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮
সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে যাকাতের অবদান

প্রতীকী ছবি

একটি সমাজের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু তার মোট সম্পদের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সেই সমাজে সম্পদ কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে, দরিদ্র মানুষ কতটা নিরাপদ, কর্মক্ষম মানুষ কাজের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং অসহায় মানুষের মৌলিক প্রয়োজন কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তার ওপরও নির্ভর করে সামাজিক সমৃদ্ধি। সম্পদের বিপুল বৃদ্ধি যদি একই সঙ্গে বৈষম্য বাড়ায়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। ইসলাম এ কারণে সম্পদ অর্জনের বৈধ অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি সম্পদের সামাজিক দায়িত্বও নির্ধারণ করেছে। সেই দায়িত্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান উপায় যাকাত।

যাকাত ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, এ সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।’ (বুখারি, হাদিস: ৮; মুসলিম, হাদিস: ১৬)। ফলে যাকাতকে কেবল দান বা স্বেচ্ছাসেবামূলক মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নির্দিষ্ট শর্তে সম্পদশালী মুসলিমের ওপর আরোপিত একটি ফরজ আর্থিক ইবাদত।

সম্পদের ওপর সামাজিক দায়িত্ব

ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, সম্পদকে নিছক ব্যক্তিগত ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হয় না। মানুষ সম্পদের মালিক হলেও তার মালিকানা চূড়ান্ত ও নিরঙ্কুশ নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো এবং তিনি তোমাদের যে সম্পদের উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় করো।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত : ৭)

এই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রয়োগ যাকাত। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা নিসাবের মালিক কোনো মুসলিমের ওপর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ২.৫ শতাংশ হারে যাকাত ফরজ হয়। ফলে সম্পদ এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকার পরিবর্তে তার একটি অংশ সমাজের প্রয়োজনময় মানুষের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি সম্পদের মালিকের জন্য যেমন আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা, তেমনি সমাজের জন্য অর্থনৈতিক পুনর্বণ্টনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

পবিত্র কোরআন যাকাতের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সদকা তো শুধু ফকির, মিসকিন, সদকা আদায়কারীদের, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা হয়, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৬০)। অর্থাৎ যাকাতের সামাজিক লক্ষ্য বহুমাত্রিক। এখানে দারিদ্র্য, ঋণগ্রস্ততা, সামাজিক অসহায়ত্ব ও বিভিন্ন ধরনের মানবিক সংকট মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।

যাকাত দারিদ্র্যের চক্র ভেঙ্গে দেয়

দারিদ্র্য শুধু আজকের খাবারের সংকট নয়। দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য একটি পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে এক প্রজন্মের দারিদ্র্য পরবর্তী প্রজন্মেও চলে যেতে পারে। যাকাতের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এই চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

দরিদ্র মানুষকে খাদ্য, পোশাক বা চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার আয় করার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক উপকরণ, একজন কৃষককে উৎপাদনক্ষম সহায়তা কিংবা একজন দক্ষ কর্মীকে কাজ শুরু করার উপযোগী উপকরণ দেওয়ার মাধ্যমে তাকে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে যাকাতের অর্থ কোন কোন কাজে ব্যয় করা শরিয়তসম্মত, সে বিষয়ে অবশ্যই ফিকহের বিধান এবং যোগ্য আলেমদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

যাকাত সম্পদের কেন্দ্রীভূত হওয়া রোধ

অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি কারণ সম্পদের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূল হওয়া। পবিত্র কোরআন সম্পদ বণ্টনের একটি নীতিগত প্রসঙ্গে বলেছে, ‘যাতে তা তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান শুধু তাদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৭)

যাকাত এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থা। একজন সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদের একটি অংশ যখন যোগ্য দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায়, তখন তা শুধু গ্রহীতার প্রয়োজন পূরণ করে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি ফিরে আসে। দরিদ্র মানুষ সেই অর্থ দিয়ে খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা গ্রহণ করে। অর্থাৎ সম্পদের একটি অংশ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবাহিত হয়।

তবে যাকাতকে আধুনিক অর্থনীতির আয়বণ্টন বা করব্যবস্থার সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। যাকাতের নিজস্ব শরিয়তি কাঠামো, সম্পদের ধরন, নিসাব, হাওল ও নির্ধারিত খাত রয়েছে। এর সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বুঝতে হলে সেই কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

যাকাতে প্রতিষ্ঠিত হয় মর্যাদার জীবন

ইসলাম দরিদ্র মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনের পাশাপাশি তার মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা, ২:২৬৪)

এই নির্দেশ যাকাত ব্যবস্থাপনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা বহন করে। সাহায্য করতে গিয়ে যদি কোনো মানুষকে অপমান করা হয়, তার ছবি বা পরিচয় প্রচার করা হয় কিংবা তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়, তাহলে সহায়তার মানবিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন গ্রহীতার সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা।

কোরআনে আরও এসেছে- ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, এর দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ১০৩)। এখানে যাকাতের দুটি দিক স্পষ্ট: সম্পদের পরিশুদ্ধি এবং মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধি।

যাকাত ঋণগ্রস্ত ও বিপন্ন মানুষকে নিরাপত্তা দেয়

সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সম্পূর্ণ দরিদ্র না হলেও ঋণের চাপে বিপর্যস্ত। আকস্মিক দুর্ঘটনা, ব্যবসায়িক ক্ষতি, চিকিৎসা ব্যয় বা পারিবারিক সংকট একজন মানুষকে ঋণগ্রস্ত করে দিতে পারে। কোরআন যাকাতের নির্ধারিত খাতের মধ্যে ‘ঋণগ্রস্তদের’ অন্তর্ভুক্ত করেছে (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৬০)।

এর মাধ্যমে ইসলামী সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়: একজন মানুষের আর্থিক বিপর্যয়কে শুধু তার ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না। সামর্থ্যবান মানুষের সম্পদের একটি অংশের মাধ্যমে সমাজ তার বিপন্ন সদস্যের পাশে দাঁড়াবে। এই নীতিই সামাজিক সংহতিকে শক্তিশালী করে।

সামাজিক সংহতিতে যাকাতের ভুমিকা

অর্থনৈতিক বৈষম্য যখন তীব্র হয়, তখন সমাজে পারস্পরিক অবিশ্বাসও বাড়তে পারে। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি এবং ধনী মানুষের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাকাত এই দুই শ্রেণির মধ্যে দায়িত্ব ও অধিকারভিত্তিক একটি সম্পর্ক তৈরি করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন, ‘তাদের জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর এমন একটি সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৪৯৬)

এই হাদিস যাকাতের সামাজিক চরিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এখানে ধনী ও দরিদ্রের সম্পর্ক শুধু দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক নয়; বরং সম্পদশালী মানুষের সম্পদের সঙ্গে সমাজের দরিদ্র মানুষের একটি শরিয়তস্বীকৃত অধিকার যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে যাকাতের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দাতব্য কার্যক্রমও এখানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই বাস্তবতায় যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে হলে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি।

এক. কারা প্রকৃত যাকাতগ্রহীতা, তার নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

দুই. যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তিন. যাকাতের অর্থ ব্যবহারে তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি যোগ্যতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্র পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরি, যাচাইযোগ্য হিসাব রাখা এবং যাকাতদাতাকে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে প্রতিবেদন দেওয়ার মতো ব্যবস্থা আস্থা বাড়াতে পারে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থাপনার যেকোনো মডেলকে শরিয়তের নির্ধারিত খাত ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

যাকাতে মিলে অর্থনৈতিক প্রবাহ ও মানবিক অর্থনীতি

যাকাতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি সম্পদকে নিষ্ক্রিয়ভাবে জমিয়ে রাখার পরিবর্তে দায়িত্বশীল ব্যবহারের দিকে উৎসাহিত করে। কোরআন সোনা-রুপা জমিয়ে রেখে আল্লাহর পথে ব্যয় না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫) একই সঙ্গে ইসলাম বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যকে অনুমোদন করেছে এবং সুদকে নিষিদ্ধ করেছে। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

অর্থাৎ ইসলামী অর্থনৈতিক দর্শনের লক্ষ্য কেবল সম্পদ সৃষ্টি নয়; সম্পদের নৈতিক ব্যবহারও নিশ্চিত করা। যাকাত সেই বৃহত্তর ব্যবস্থার একটি অংশ। সম্পদ উৎপাদিত হবে, বৈধ পথে উপার্জিত হবে, মানুষের প্রয়োজন পূরণে ব্যবহৃত হবে এবং সম্পদের একটি নির্ধারিত অংশ সমাজের অধিকারী মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

আজকের পৃথিবীতে উন্নয়ন বলতে সাধারণত আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বোঝানো হয়। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি সমাজের মানুষের একটি বড় অংশ যদি খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপদ জীবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে সেই সমাজের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ইসলামের যাকাতব্যবস্থা তাই সমৃদ্ধির একটি ভিন্নতর মানবিক সংজ্ঞা সামনে আনে। এখানে ধনী হওয়া অপরাধ নয়, সম্পদ অর্জনও নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু সম্পদের সঙ্গে দায়িত্ব যুক্ত। দরিদ্র হওয়া অপরাধ নয়; বরং দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্পদশালীর দায়িত্বের অংশ। এই দর্শনের মূল কথা হচ্ছে- অর্থনীতি মানুষের জন্য, মানুষ অর্থনীতির জন্য নয়।

যাকাতকে যদি কেবল রমজানে কিছু অর্থ বিতরণের একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর সামাজিক সম্ভাবনার বড় অংশই অদৃশ্য থেকে যাবে। আবার যাকাতের নামে শরিয়ত নির্ধারিত খাতের বাইরে অর্থ ব্যয় করাও সমাধান নয়। প্রয়োজন হলো শরিয়তের বিধান মেনে সঠিক হিসাব, যোগ্য গ্রহীতা শনাক্তকরণ, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ।

যাকাতের লক্ষ্য শুধু দরিদ্রের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সম্পদ দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, বিপন্ন মানুষ একা পড়ে থাকে না, ঋণগ্রস্ত মানুষ পুনরায় দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং অর্থনৈতিক শক্তি সমাজের দুর্বল সদস্যদের জীবনেও কল্যাণ বয়ে আনে।

একটি সমৃদ্ধ সমাজে মানুষের ঘরে শুধু আলো থাকবে না, থাকবে নিরাপত্তা ও মর্যাদাও। সেখানে সম্পদের প্রাচুর্য কেবল কয়েকটি পরিবারের জীবনকে বিলাসী করবে না; বরং তার আলো পৌঁছাবে সমাজের প্রান্তিক ঘরেও। ইসলামের যাকাতব্যবস্থা সেই মানবিক অর্থনীতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যেখানে সম্পদ ব্যক্তির হাতে আমানত এবং সমাজের কল্যাণে তার ব্যবহার একটি নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

[email protected]

 

যাকাতসামাজিক সংহতিতে যাকাত
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ‘ধানের শীষে ভোট চাইছি, মাফ চাই’, পোস্ট দিয়ে বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

    ‘ধানের শীষে ভোট চাইছি, মাফ চাই’, পোস্ট দিয়ে বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

    ১৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন রিকশাচালক রেজাউল

    ১৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন রিকশাচালক রেজাউল

    এক মিনিটে চার ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক

    এক মিনিটে চার ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক

    নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    চীনা কৌশলে জেগে উঠুক বাংলার গ্রাম

    চীনা কৌশলে জেগে উঠুক বাংলার গ্রাম

    কেন বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ,  ব্যর্থ হলো সি-পপ

    কেন বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ, ব্যর্থ হলো সি-পপ

    ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ

    ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ

    বামপন্থী আলিফ হচ্ছেন বার্লিনের প্রথম মুসলিম মেয়র

    বামপন্থী আলিফ হচ্ছেন বার্লিনের প্রথম মুসলিম মেয়র

    মাউশির ৩ সাবেক ডিজিকে বেতন দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে

    মাউশির ৩ সাবেক ডিজিকে বেতন দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে

    বাসভাড়া বাড়ছে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপন আসছে

    বাসভাড়া বাড়ছে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপন আসছে

    ধানমন্ডি লেকে ভাসছিল মার্কেটিং কনসালট্যান্টের মরদেহ

    ধানমন্ডি লেকে ভাসছিল মার্কেটিং কনসালট্যান্টের মরদেহ

    অভিনেত্রীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কের বিস্তারিত বইয়ে লিখে বিপাকে নওয়াজউদ্দিন!

    অভিনেত্রীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কের বিস্তারিত বইয়ে লিখে বিপাকে নওয়াজউদ্দিন!

    তিস্তার স্রোতে ভেসে যাওয়া হাতি শাবককে উদ্ধার করে মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন জেলেরা

    তিস্তার স্রোতে ভেসে যাওয়া হাতি শাবককে উদ্ধার করে মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন জেলেরা

    ৫৬ দিনের ভিসি

    ৫৬ দিনের ভিসি

    নদী হত্যার অর্থনীতি মূল্য দিচ্ছে কারা

    নদী হত্যার অর্থনীতি মূল্য দিচ্ছে কারা