ছুটির দিনে জমে উঠেছে ইসলামি বইমেলা

বায়তুল মোকাররমে ইসলামি বইমেলা
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা।
জুমার নামাজের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে বইপ্রেমীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্টলগুলোতে ভিড় আরও বেড়ে যায়।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে বসেছে এ মেলা। সবচেয়ে বেশি স্টল ও দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে পূর্ব গেট এলাকায়।
প্রকাশকরা জানান, ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে আসা মুসল্লি ও পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে। মেলায় ‘সিরাত’ বা মহানবী (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ফুলদানী প্রকাশনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মো. আবির বললেন, ‘প্রথম কয়েকদিন প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার টাকার মতো বিক্রি হলেও আজকে ছুটির দিনে বিক্রি ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতি বছরই শুক্রবার বিক্রি বেশি হয়, আশা করছি দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা আরও জমে উঠবে।’
অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ইসলামি বইয়ের বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন আইডিয়া প্রকাশকের প্রতিনিধি মো. হাসান।
তিনি বলেছেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ ভিড় বেশি হলেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় বই বিক্রির হার কিছুটা নিম্নমুখী। অনেকেই বই হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে চলে যাচ্ছেন।’
সোলেমানিয়া বুক হাউসের বিক্রয়কর্মীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার ভাষ্য, স্মার্টফোনে বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যায়। এ ছাড়া পড়াশোনা অনলাইনকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় বইয়ের পাঠক কিছুটা কমেছে।
দূর-দূরান্ত থেকেও মেলায় এসেছেন অনেক বইপ্রেমী। চাঁদপুর থেকে আসা মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মো. বিল্লাল বললেন, ‘তিন বন্ধু মিলে লঞ্চে ঢাকায় এসেছি বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ পড়তে ও মেলায় বই কিনতে। মেলা থেকে পছন্দের ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’ বইটি কিনেছি, সরাসরি ঘুরে বই কিনতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন মিরপুরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘ছুটির দিনে ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছি তাকে ইসলামি সাহিত্য ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। ছোটদের উপযোগী কিছু বই দেখছি। কোনগুলো কিনবো সেটা ভাবছি।’
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ওয়াফা হিফজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আয়োজনে ‘সীরাহ এক্সিবিশন’।
প্রাথমিকভাবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হলেও জনপ্রিয়তার কারণে এটি মেলার পূর্ব গেটে স্থান পেয়েছে। এতে মহানবী (সা.)-এর শৈশব, কৈশোর, ইসলাম-পূর্ব আরব, গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ এবং নবীর প্রতীকী বাসস্থানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনী দেখতে আসা ১৬ বছরের কিশোর মো. মিরাজ বলছিলেন, ‘বইয়ে পড়া প্রিয় নবীর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা চোখের সামনে এভাবে রূপক অর্থে দেখে অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে।’
প্রদর্শনীর দেখভালের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান জানান, বইয়ের পাতায় থাকা সিরাতের শিক্ষাকে শিশুদের সামনে দৃশ্যমান করা এবং তাদের অনুভূতিতে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। এতে তারা প্রিয় নবীর চরিত্র ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারবে বলে আশা তাদের।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। এর আগে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের ১০০টিরও বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৪৪টি স্টল রয়েছে। কোরআনের তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইতিহাস ও গবেষণাধর্মী বইয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু ও সিরাত কর্নার রাখা হয়েছে।
আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ মেলা। রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।



