সৌদিতে আটকে ১০ কোটি টাকা, ছাড়াতে সরকারের উদ্যোগ চায় হাব

ছবি: আগামীর সময়
চলতি বছরের (২০২৬ সাল) হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এজেন্সিগুলোর আইবিএএন অ্যাকাউন্টে রক্ষিত প্রায় ১০ কোটি টাকা (৩০ লাখ সৌদি রিয়াল) আটকে রেখেছে সৌদি সরকার। চিকিৎসা খরচের নামে এ টাকা আটকে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
এ টাকা দ্রুত ছাড় করানোর উদ্যোগ নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠনটি।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এ দাবি জানান। এ সময়ে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাব মহাসচিব বলেন, ‘২০২৬ সালে হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এজেন্সিগুলোর আইবিএএনে (আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) রক্ষিত টাকা ফেরত আনতে গেলে সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে দেয় এবং মেডিকেল বিলের নামে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল দাবি করেন। হজ চুক্তি কিংবা পূর্বে কোনো মাধ্যমে আমাদের সরকার কিংবা এজেন্সি বা হজযাত্রী কাউকে এ বিষয়ে অবহিত না করে হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত।’
টাকা পরিশোধে বিরত থাকার আহ্বান
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এই মুহূর্তে কোনো হজযাত্রী চিকিৎসা ব্যয় খাতে কোনো টাকা পরিশোধ করবেন না। আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়কে উল্লেখিত ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল দ্রুত ছাড় করানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবেও বিষয়টি অবহিত করেছি। সরকারের পদক্ষেপে যদি এ বিষয়ে সফলতা না আসে তাহলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আপৎকালীন তহবিল থেকে এ টাকা পরিশোধ করার দাবি করছি। হজযাত্রীরা এ টাকা পরিশোধ করবেন না, তাই এজেন্সির পক্ষে এ বিশাল টাকা পরিশোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হজ চুক্তিতে কিংবা এর আগে কোনো মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার, হজ এজেন্সি বা হজযাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
‘২০ হাজারের ঊর্ধ্বে হজযাত্রী অপেক্ষমাণ’
হাব মহাসচিব আরও বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সনের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর সৌদি সরকার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকে। এ কারণে ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করে। এ বছর নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২০ হাজারের ঊর্ধ্বে হজযাত্রী অপেক্ষমাণ। এসব হজযাত্রী মানসিক ও আর্থিকভাবে এ বছর হজ পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের কিছু সদস্য নিবন্ধিত হয়েছেন, বাকিরা অপেক্ষমাণ। হজ গমনেচ্ছুক আল্লাহ পাকের মেহমানদের কথা বিবেচনা করে রাজকীয় সৌদি সরকার থেকে কমপক্ষে আরও ২০ হাজার কোটা বরাদ্দ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।



