হাদিসের কথা
মোরগের ডাক নিয়ে নবী (সা.) যা বলেছেন

ছবি: এআই
ভোরের নীরবতা ভেঙে মোরগের ডাক গ্রামবাংলার চিরচেনা এক দৃশ্য। সূর্য ওঠার আগেই তার কণ্ঠে যেন শুরু হয় নতুন দিনের আহ্বান। আধুনিক জীবনে অ্যালার্ম, মোবাইল ফোন কিংবা নানা প্রযুক্তি আমাদের ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব নিলেও মোরগের ডাকের সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের যে সম্পর্ক; ইসলামী শিক্ষায় তারও রয়েছে একটি সুন্দর দিক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মোরগকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। যায়িদ ইবনু খালিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিও না। কারণ সে সালাতের জন্য জাগায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫১০১)
হাদিসটির মধ্যে শুধু একটি প্রাণীকে গালি না দেওয়ার নির্দেশই নয়; বরং একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গিরও শিক্ষা চিত্রিত হয়েছে। মোরগের ডাক মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে তাকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে ফজরের সময় তার ডাক একজন ঘুমন্ত মানুষের জন্য যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা। তাই কোনো প্রাণীকে অকারণে গালাগালি না করে তার উপকারের দিকটিও আমাদের উপলব্ধি করা উচিত।
ইসলাম প্রাণীর প্রতিও দয়া ও সদাচরণের শিক্ষা দিয়েছে। কোনো প্রাণী মানুষের উপকারে আসুক বা না আসুক, অকারণে তাকে কষ্ট দেওয়া কিংবা গালি দেওয়া ইসলামী শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মোরগের ডাকের মতো একটি সাধারণ বিষয়কেও রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, একজন মুমিনের জীবনে নামাজের গুরুত্ব কত গভীর।
হাদিসটি আমাদের জন্য আরও একটি শিক্ষা বহন করে। ফজরের নামাজ সময়মতো আদায় করা ঈমানদারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মোরগের ডাক যদি আমাদের ঘুম ভাঙার একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম হয়, তাহলে সেই ডাককে অবহেলা না করে নামাজের জন্য জেগে ওঠাই হওয়া উচিত মুমিনের সচেতনতা।
আজ আমরা ঘুম ভাঙাতে মোবাইলের অ্যালার্ম ব্যবহার করি। কিন্তু সেই প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মাঝেও নবীজি (সা.)-এর এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা প্রতিটি উপায়কে মূল্য দেওয়া উচিত। মোরগের ডাক তাই শুধু একটি পাখির স্বাভাবিক ডাক নয়; একজন মুমিনের কাছে তা ফজরের নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এক চিরচেনা প্রাকৃতিক আহ্বান।
লেখক: শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, গাজিপুর।




