মিথ্যা অপবাদের ভয়াবহ পরিণতি

প্রতীকী ছবি
ইসলাম মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। একজন মুসলমানের মুখ, হাত ও আচরণ থেকে যেন অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে— এটাই ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। বিশেষ করে কোনো মুমিনের বিরুদ্ধে এমন কথা বলা, যা তার মধ্যে নেই, অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মিথ্যা অপবাদ, গীবত ও মানহানির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
«مَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ، أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ، حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ»
‘‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে, যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’-এ বসবাস করাবেন, যতক্ষণ না সে তার বলা কথা থেকে ফিরে আসে।” (সহিহ আত-তারগীব, হাদিস: ২৮৪৫)
এ হাদিস আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক শিক্ষা বহন করে। মানুষ অনেক সময় রাগ, হিংসা, বিদ্বেষ, প্রতিযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে। কখনো যাচাই না করেই কোনো সংবাদ প্রচার করে, আবার কখনো কারও চরিত্র, আমল, যোগ্যতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন মন্তব্য করে, যার কোনো সত্যতা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এ প্রবণতা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। একটি মিথ্যা কথা মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষের কাছে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
হাদিসে ‘رَدْغَةَ الْخَبَالِ’ (রাদগাতুল খাবাল)-এর কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা জাহান্নামিদের পুঁজ ও রক্তের নোংরা তরল বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ একজন নিরপরাধ মুমিনের সম্মান নষ্ট করা আল্লাহর কাছে এতটা গুরুতর অপরাধ যে— মহান আল্লাহ সেই অপরাধীকে রাদগাতুল খাবালে রাখার মতো ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি করবেন।
তাই কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে কথা বলার আগে আমাদের অবশ্যই চিন্তা করতে হবে যে, আমি যা বলছি, তা কি সত্য? এর দ্বারা কি কারও সম্মান নষ্ট হবে? কিয়ামতের দিন এই কথার জবাব কি আমি দিতে পারব?
আমাদের উচিত মিথ্যা অপবাদ, গুজব, কুৎসা ও যাচাই-বিহীন সংবাদ থেকে নিজেদের জিহ্বা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৎপড়তাকে হেফাজত করা। কারও মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকলেও তা প্রকাশ করার পরিবর্তে সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত। আর যদি ভুল করে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে ফেলি, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা করার পাশাপাশি যার ক্ষতি করেছি, তার কাছেও ক্ষমা চাওয়া কর্তব্য।
সুতরাং একজন মুমিনের সম্মান রক্ষা করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি ঈমানি দায়িত্ব। আমাদের জিহ্বা যেন কারও জন্য জাহান্নামের কারণ না হয়; এ ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকা উচিত।
লেখক: আলেম সাংবাদিক





