হেবা বিষয়ে সরকারি আইন ও শরিয়তের বিধান

প্রতীকী ছবি
সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা ইসলামী শরিয়তের একটি স্বীকৃত ও সুস্পষ্ট বিধান। বিশেষ করে পিতা-মাতা জীবদ্দশায় সন্তান বা নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি হেবা করে দেওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ব্যাপার। তবে হেবা শুধু সম্পত্তি লিখে দেওয়ার নাম নয়; এর নিজস্ব শরয়ী সংজ্ঞা, শর্ত ও বিধান রয়েছে। সম্প্রতি সরকার পিতা-মাতা ও রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যে নতুন আইনি বিধান করেছে, তার সঙ্গে শরিয়তের হেবা-নীতির সম্পর্ক ও সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। চলুন প্রথমে আমরা ইসলামী শরিয়তের আলোকে হেবার বিষয়টি জেনে নেই।
এক. হেবা বা দানের শরয়ী সংজ্ঞা ও শর্ত
বিনা মূল্যে স্বেচ্ছায় অপর কাউকে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করাকে হেবা বলা হয়। ইসলামী শরিয়তে হেবা সম্পন্ন ও কার্যকর হওয়ার জন্য তিনটি মৌলিক শর্ত পূরণ হতে হয়:
১. الإيجاب (দাতার সুস্পষ্ট প্রস্তাব)। ২. القبول (গ্রহীতার সম্মতি বা গ্রহণ) ৩. القبض والتسليم (বাস্তব দখল হস্তান্তর)
দুই. কোরআনের আলোকে আমল ও চুক্তি বিনষ্ট না করার নীতি
হেবা সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর তা অহেতুক বাতিল বা বিনষ্ট করা কোরআনের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী: পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো, আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৩)
তিন. রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের হেবা প্রত্যাহার না হওয়ার অকাট্য প্রমাণ
হস্তান্তর ও দখল সম্পন্ন হওয়ার পর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার হেবা কোনো অবস্থাতেই ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ



