আড়াই লাখের বেশি ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমকে মাসিক সম্মানি দেবে সরকার

ছবি: আগামীর সময়
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে মাসিক সম্মানি ভাতা দেবে সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গঠিত সেলের সপ্তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। প্রথম বছরে দেশের মোট সুবিধাভোগীর এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জনকে এ ভাতা দেওয়া হবে। আগামী চার বছরে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, চলতি অর্থবছরে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন, ৩ হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহারের ১ হাজার ৫০৪ জন এবং ৩০১টি গির্জার ৬০২ জন এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাবেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানি প্রদান করা হয়েছিল।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, মাসিক ভিত্তিতে ইমাম, পুরোহিত, বিহারাধ্যক্ষ এবং যাজকদের ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহারের উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকদের ৩ হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেমদের ২ হাজার টাকা করে সম্মানি দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক সুবিধাভোগী বছরে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীদের চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






