জাসদ কার্যালয় ঘিরে যুবদলের অবস্থান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী : জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কার্যালয় ঘিরে যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব শৌর্য দীপ্ত সূর্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘেরাও করা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তার প্রতিকার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদ কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে অবস্থান নেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী ২৭৮ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। এর মধ্যে ২৭ জনকে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাসদ নেতাদের বক্তব্য তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, সভাটি দলীয় নিয়মিত কর্মসূচির অংশ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘একটি বৈধ রাজনৈতিক দলের সভায় সরকারি দলের সহিংস আক্রমণ এবং পরবর্তীতে পুলিশি অভিযান পরিকল্পিতভাবে দলটির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে সন্দেহ করার অবকাশ আছে।’
এ ঘটনাকে গণতন্ত্র চর্চার ব্যত্যয় ও অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
জিএম কাদের আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে শুধুমাত্র তারাই এ ধরনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।




