হট্টগোলে পণ্ড যুবদলের জরুরি সভা, অস্বীকার শীর্ষ নেতৃত্বের

হট্টগোলে স্থগিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের জরুরি সভা। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়তাবাদী যুবদলের জরুরি সভায় ঘটেছে হট্টগোলের ঘটনা। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে কেন্দ্র করে আলোচনার সময় বাদানুবাদ হয় সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে স্থগিত করা হয় সভাটি।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চতুর্থ তলার ঘটনা এটি। সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিলসহ গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত বিভাগীয় পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের প্রস্তুত করা প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করতে আহ্বান করা হয়েছিল এ জরুরি সভা।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রের দাবি, সদ্য অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির দায় একে অপরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু হলে সভা স্থগিত করা হয়।
তবে এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম
নয়ন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগামীর সময়কে বলেন, ‘তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটা
জাস্ট একটা আলোচনা সভা, কোনো গণ্ডগোল হয়নি। সাংগঠনিক মিটিংয়ে নানান ধরনের আলোচনা হতে
পারে, সেটা কোনো বিরোধ নয়।’
এদিকে সোমবার রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে আমার তিন দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক। এখনো এই সম্পর্ক সুসম্পর্কই আছে। আজ (রবিবার) আমাদের ১০টি বিভাগীয় সাংগঠনিক গ্রুপ, যারা সপ্তাহব্যাপী কাজ করে ঢাকায় ফিরেছে, তাদের নিয়ে জরুরি সভা ছিল। যেহেতু ১০টি বিভাগীয় সাংগঠনিক গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা, তাই সভাটি দীর্ঘ হয়েছিল। সে কারণে আজকের সভা মূলতবি করে আগামীকাল (সোমবার) বিকেল ৫টায় আবার সভা শুরুর সময় সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গণতন্ত্রে তর্ক এবং বিতর্ক সাধারণ একটি ব্যাপার। পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত থাকতেই পারে। তাই বলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। আমরা স্বাভাবিকভাবে সভা মূলতবি করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে নিচে নেমে এসেছি। আমি নিজে সাধারণ সম্পাদককে বিদায় দিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীসহ পল্টন মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে গিয়েছি। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সত্য নয়।’
এদিকে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার বিকেলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ছোট রাখার দলীয় বাধ্যবাধকতার কারণে যোগ্যতাসম্পন্ন সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটিকে একটি রূঢ় বাস্তবতা উল্লেখ করে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন এবং ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর গত ৪ জুন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি।



