সেই তুষারকেই মাদারীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক করেছে এনসিপি

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাদারীপুর জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তুষার ভূঁইয়াকে। তিনি সম্প্রতি দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গাড়িতে চড়িয়ে বিতর্কে পড়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর সই করা অনুমোদনপত্রে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ ছয় মাসের।
এতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আতিকুর রহমান হাওলাদারকে। এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মনির হোসেন, রাজু আহমেদ, তুষার সব্যসাচী, বিপ্লব কাজী, হাসিবুল হাসান ও রেজাউল করিমকে।
কমিটিতে সদস্যসচিব করা হয়েছে ইমামজ্জম হোসেন রোমানকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ফরহাদ হোসেন। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মহসিন ফকির, লায়ন আলমগীর হোসেন, শেখ মাসুদ, রুবেল মাহমুদ, মো. আবেদ আব্দুল্লাহ ও মো. হেলাল উদ্দিন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসের জন্য মাদারীপুর জেলা কমিটি অনুমোদন করা হলো। ফলে তুষার ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই আগামী ছয় মাস মাদারীপুরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে তুষার ভূঁইয়াকে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন প্রাডো গাড়িতে পাটওয়ারী ‘লংড্রাইভ’ করেছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে দাবি করেন, মন্ত্রীপাড়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাড়িতে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ও সম্পদ দখলের কথা বলতেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে তাকে লংড্রাইভ করতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাড়িটি নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে উপহার দেওয়া হয়েছিল, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখারও দাবি জানান তিনি।
একই পোস্টে রাশেদ খাঁন ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ওই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে জোরালো বক্তব্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চের উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তৈরি করা। পাশাপাশি কর্মসূচিতে উসকানিমূলক স্লোগান ও লাঠিসোঁটা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
আমজনতা পার্টির তারেক রহমানও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত গাড়িটি মনিরুল হকের বলে দাবি করেন। একটি ভিডিওতে গাড়িটির মালিকানার প্রমাণ হাজির করার কথাও জানান তিনি।
গাড়িটির মালিক মনিরুল হক ভূঁইয়া ওরফে তুষার ভূঁইয়া ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দলটির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলের সামনেও ছিলেন তিনি। সেসময় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছিল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।
তার পদ না থাকলেও তিনি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ছিলেন।
তবে তুষার ভূঁইয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থাকা পোস্ট থেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট করেছিলেন।






