দুদকের ‘প্রেস ব্রিফ’ চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদ আদালতে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চরিত্র হনন করছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এবার তার প্রতিকার চেয়ে আদালতে গেলেন তিনি।
তার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়ে দুদক যে দুই দফা প্রেস ব্রিফ করেছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা, যিনি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের হয় বলে আজ সোমবার আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামার পর গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক প্রেস ব্রিফ করেন।
তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে রিট আবেদনে। পাশাপাশি এসব ব্রিফিং কেন সংস্থাটির ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, সেই রুলও চাওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদকের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
একই সঙ্গে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেছেন, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই এর শুনানি হতে পারে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে ‘প্রকাশ্য সত্য’ হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দুদক বা সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’। এতে বিচার হওয়ার আগেই নির্দোষ থাকার আইনি ধারণা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে।
দুদক প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার কাজে যুক্ত হয়েছে বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন। প্রথমে শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছেড়ে রাজনীতিতে নেমে এনসিপিতে যোগ দেন আসিফ। দলটি থেকে তিনি এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মধ্যেই তাকে নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যুব অধিদপ্তরে নিয়োগ-পদায়নে বাণিজ্যের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে অবৈধভাবে উপার্জিত ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানও করছে দুদক।
গত ২ সেপ্টেম্বর ব্রিফিংয়ে আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় দুদক।
সেই ব্রিফিংয়ের পর তা প্রত্যাহার করতে আসিফ মাহমুদ আইনি নোটিস পাঠান দুদককে। তারপর ১৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি ব্রিফ করে দুদক। সেখানে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি বলা হয়।





