দুদকের উদ্দেশ্য ‘চরিত্র হনন’, পদক্ষেপ নেবেন আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্দেশ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নয় বরং চরিত্র হনন, এমনটাই মনে করছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ বললেন, ‘দুদক যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করে তাহলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
আসিফ মাহমুদ বললেন, ‘দুদক মুখপাত্র যে প্রেস ব্রিফিং করেছেন সেখানে তিনি বলেছেন যে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তারা অনুসন্ধান শুরু করেছেন। পরে আমি ফেসবুক পোস্ট করে তাদের প্রমাণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানাই। এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরে আমি কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে জানতে পারি, সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুদকের মুখপাত্র বলেছেন, আমি ভুলবশত প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে ফেলেছি, আপনার সেটি ব্যবহার করবেন না।’
‘কিন্তু ওনি যে ভুলবশত কথাটি বললেন, এর আগেই কিন্তু সারাদেশে নিউজ হয়ে গেছে। ওনার ওই বক্তব্য ভিডিও আকারে প্রচার হয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষের কাছে যে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে’, যোগ করেন এ তরুণ রাজনীতিবিদ।
এরমধ্যে মানহানি হয়ে গেছে উল্লেখ করে এনসিপির এ নেতা বললেন, ‘আমার যতটা মানহানি সম্ভব তা করা হয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে আমরা দুদক মুখপাত্রকে আহ্বান জানিয়েছিলাম, তিনি যেন তার ভুল বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব নিউজ হয়েছে তা সরিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেন। কিন্তু দুদক থেকে কোনো সাড়া পাইনি। বলেছিলাম যে, এ বিষয়ে আইন প্রক্রিয়ায় যাব। আমাদের সে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে আপনাদের জানাব।’
শুধু তার বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এ নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং এ বিষয়ে প্রচারিত দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়।
আসিফ বললেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। উপদেষ্টা হিসেবে থাকার সময় অনেকগুলো সিদ্ধান্ত মানুষের পক্ষে নিয়েছি দেখেই অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে।’
দুদকের বিরুদ্ধে পুরনো কায়দায় প্রতিপক্ষকে দমনের অভিযোগ তুলে আসিফ বললেন, ‘আমরা মনে করছি এই অনুসন্ধান আসলে অনুসন্ধান না। এ অনুসন্ধান হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি এবং দুদকের মাধ্যম ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনপীড়ন করা হয়েছিল, ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছিল, কথা বলা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, আবার সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা যাচ্ছে।’
বিএনপি আমলের বদলি-পদোন্নতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান করছে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য, ‘১৩৫ জনের পদোন্নতি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১১ মে। এর সঙ্গে আমাকে সংশ্লিষ্ট করে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন।
শুরুতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ, পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলান তিনি।
সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। রাজনীতিতে নেমে এখন তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।
আসিফ এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মধ্যেই তাকে নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামল।
আসিফ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বাণিজ্য, পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মো. জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুদ আহমেদকে নিয়েও অনুসন্ধান করবে।







