বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের দেশে ফেরাতে ‘সর্বোচ্চ’ চেষ্টায় সরকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে। ছবি: ভিডিও থেকে
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ ছুঁয়েছে সংসদকেও। দুজন সংসদ সদস্য বিষয়টি তুলে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অভিনেত্রী বাঁধন গতকাল সোমবার ইতালির ভেনিস শহরে আক্রান্ত হন। একটি পার্কে হামলা হয় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর।
ঘটনার পরপরই ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাঁধন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে বাঁধন দাবি করেন। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনের শুরুতে এ নিয়ে কথা বলতে দাঁড়ান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী।
অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সুযোগ দিলে বিএনপির এই নারী এমপি বলেন, তিনি একটি ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ে সংসদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান।
ডেপুটি স্পিকার সায় দিলে জহরত ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এই আক্রমণের একমাত্র কারণ তিনি একজন জুলাইযোদ্ধা। ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের চিহ্নিত লোকজন’ এই আক্রমণ করেছেন।
হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে দাবি করে তিনি এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানতে চান।
তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, এটি নিন্দনীয় অপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
তবে অধিবেশন কক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দুই প্রতিমন্ত্রীর কেউ তখন না থাকায় তারা এলে বিষয়টি তুলবেন বলে জানান কায়সার কামাল।
এরপর কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বের পর অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়িয়ে একই প্রসঙ্গ তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, ‘পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার (বাঁধন) ওপর হামলা করেছে। তিনি যে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেজন্যই তার ওপর হামলা হয়েছে।’
এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটনার কথা জানিয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ওপর হামলার কথা বলেন আখতার।
সরকারের কাছে তিনি জানতে চান, ‘এই ধরনের হামলাগুলো করে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না?’
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন অধিবেশনে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের কাছে উত্তর প্রত্যাশা করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এদিনই প্রথম সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন হুমায়ুন কবির। সংসদে উত্তর দিতে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে জুলাই শহীদ ও জুলাইযোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা মানে এদের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা।
বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া টেররিস্টরা তার ওপর হামলা চালায়। আমি বিষয়টি নিয়ে সকালে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ইতালীয় পুলিশ অফিসকে অবগত করি। বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাঁধনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি।
বাঁধন এরই মধ্যে ইতালি পুলিশে অভিযোগ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানের কনস্যুলেট বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
‘আমরা এদেরকে (হামলাকারী) এদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব,’ বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।







