বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে সরব জুলাই আন্দোলনকারীরা

ইতালির ভেনিস শহরে গতকাল মধ্যরাতে আক্রান্ত হন বাঁধন। ছবি ভিডিও থেকে সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ইতালিতে তার ওপর হামলার পর প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন সেই আন্দোলনকারীরা।
ইতালির ভেনিস শহরে গতকাল মধ্যরাতে আক্রান্ত হন বাঁধন। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, একটি পার্কে ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে বাঁধন দাবি করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
বাঁধনের ওপর এই হামলার পর জুলাই আন্দোলনে তার সহযোদ্ধা অনেকে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি)।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতাকর্মীরা এখনো হামলা ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
জুলাই আন্দোলনে বাঁধনের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে তার ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লিখেছেন, জুলাইয়ের কঠিন দিনগুলোতে আজমেরী হক বাঁধন ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছিলেন, রাজপথে নেমেছিলেন। নীরব থাকা যখন অনেক সহজ ছিল, তখন তিনি নীরব থাকেননি।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম আন্দোলনের সহযোদ্ধা বাঁধনের পাশে এখনো থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত। আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন। আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও বাঁধনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। হামলার মুখেও বাঁধনের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা’ কথাটি তুলে ধরার পাশাপাশি তার প্রতি সংহতি জানায় সংঠগনটি।
পোস্টে বলা হয়, ‘বাঁধন, আপনি একা নন। আমরা আপনার পাশে আছি। হ্যাঁ, আমরাও জুলাইযোদ্ধা।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক বিবৃতিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও বিচার দাবি করেন।
বিদেশে এই হামলায় জড়িত দেশি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ফেসবুক পোস্টে বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেছেন, একজন নারী তথা জুলাইযোদ্ধাকে বিদেশের মাটিতে একা পেয়ে এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের সামান্যতম অনুশোচনা হয়নি। কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেছেন, ‘এরা কতটা নিকৃষ্ট হলে একজন নারীর ওপর এভাবে হামলে পড়ে সেটা গতকাল দেশের মানুষ দেখেছে। বাঁধনের অপরাধ কী? তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রিয়াজ-ফেরদৌসদের মতো স্বৈরাচারের পা চাটেননি, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে রাজপথে নেমেছিলেন। সরকারকে বলব, এই হামলা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী পান্ডাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।’





