সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি এগিয়ে নিতে চায় শিবির

সংগৃহীত ছবি
চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারত্বের পরিবর্তে সৃজনশীলতা, সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে শিবির।
আজ শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের নববর্ষের প্রকাশনা সামগ্রীর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘নববর্ষের প্রকাশনাগুলো দীর্ঘ গবেষণা ও চিন্তার ফসল। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং মুসলিম সালতানাতের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবারের প্রকাশনার থিম সাজানো হয়েছে। আমরা নান্দনিকতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণাভিত্তিক সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম চালু রাখব।’
তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তরুণদের ব্যক্তিজীবন পরিশুদ্ধ করা এবং ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিবছর গবেষণালব্ধ প্রকাশনা, সাময়িকী, বিজ্ঞান সাময়িকী ও ধর্মীয় বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এ বছর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।’
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, ‘ছাত্রশিবিরের পথচলা বারবার থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সৃজনশীলতা, সৌন্দর্য ও উৎকর্ষের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাচ্ছে ছাত্রশিবির।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরের শাসনামলে দেশ আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে নতজানু অবস্থায় ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের ক্যালেন্ডারে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্ল মার্ক্স, লেনিন কিংবা বস্তুবাদী দর্শন নিয়ে অবাধে কথা বলার সুযোগ থাকলেও আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না। কোরআনের আসর আয়োজনের কারণে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও শোকজের মুখোমুখি হতে হতো।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারত্বের পরিবর্তে সৃজনশীলতা ও জাতি গঠনের রাজনীতি করে। ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সংগঠনটি এমন একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা আগামী দিনে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।’
অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের নববর্ষের প্রকাশনাসামগ্রীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এবারের আয়োজনে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজি ডায়েরি, পকেট ও মাঝারি ডায়েরি, নোটবুক, ইয়ার প্ল্যানার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যালেন্ডার। প্রকাশনাগুলোতে মুসলিম ঐতিহ্য, ইতিহাস, সমাজ সচেতনতা ও ব্যবহারিক উপযোগিতার সমন্বয় ঘটানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলা ডায়েরির প্রচ্ছদ সাজানো হয়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদের মুঘল স্থাপত্যশৈলীর টেরাকোটা অলংকরণের আদলে। এতে প্রতিদিনের বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সমকালীন বইয়ের পরিচিতি যুক্ত করা হয়েছে। ডেস্ক ক্যালেন্ডারে আয়া সোফিয়া, কর্ডোভা ও মসজিদে কুবাসহ ইতিহাসখ্যাত ১২টি মসজিদের সচিত্র পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশনার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ‘তিন পাতা ক্যালেন্ডার’। এতে বাংলাদেশের ভূরাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীর পানির হিস্যা, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব ও সুনীল অর্থনীতি, মুসলিম পরিচয়ের শেকড় সন্ধান এবং ডাটা সার্বভৌমত্বের মতো বিষয় স্থান পেয়েছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনার জন্য মাসিক ও দৈনিক রুটিনের ছকসংবলিত ইয়ার প্ল্যানার, লেদার ও জেল বাইন্ডিংয়ের ডায়েরি এবং সুরা ইব্রাহিমের আয়াতের ক্যালিগ্রাফিসংবলিত এক পাতা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে।



