জাসদ কার্যালয়ে হামলা-গ্রেপ্তারে নিন্দা আসকের

প্রতীকী ছবি
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করা এবং ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
তবে জাসদ জানিয়েছে, কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলছিল। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
জাসদের অভিযোগ, সভা চলাকালে যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
আসক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে মব সৃষ্টি করে তা ভণ্ডুল করা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
আসক আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার এবং ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন করার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) ২১ অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ২২ অনুচ্ছেদে সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, জাসদ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। বহুত্ববাদ গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ভিন্নমত ও তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনও গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। আইন দ্বারা নিষিদ্ধ না থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
আসকের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে হামলা ও মব সৃষ্টি শুধু সংশ্লিষ্ট দলের অধিকার ক্ষুণ্ন করে না, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসরের জন্যও উদ্বেগজনক নজির তৈরি করে।
জাসদ কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি ও রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আসক। সংগঠনটি বলেছে, গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে হামলা, উসকানি, সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।




