আগামীর চোখ
অ্যাম্বুলেন্সও মারা যায়!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
সন্দ্বীপ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে না পারায় দ্বীপবাসীর মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরনো। দ্বীপবাসীর মতো সরকারি দুটি সি অ্যাম্বুলেন্সও সাগরকূলে আজ মৃত্যুপথযাত্রী। মজার ব্যাপার হলো— সি অ্যাম্বুলেন্সের মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার ইতিহাসও পুরনো! ২০০৮ সালে দ্বীপবাসীর কথা ভেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম সি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিল। তখন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা হয়তো ধরে নিয়েছিলেন— জলযানটি হয়তো হাওয়া-বাতাসে ভেসে সাগর পাড়ি দেবে; তাই তেল ও চালকের খরচ বরাদ্দের মতো তুচ্ছ ঝামেলায় তারা যাননি। ফলে তিন বছর জঙ্গলেই পড়ে ছিল সেটি। ২০১১ সালে সাময়িকভাবে চালু করা গেলেও, তা ছয় মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়। গুপ্তছড়া ঘাটে রিটায়ারমেন্ট উপভোগ করতে করতে আজ সেটি সম্পূর্ণ পঙ্গু ও মৃত্যুপথযাত্রী।
২০১৫ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় যেন প্রথমটির নিঃসঙ্গতা কাটাতে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সি অ্যাম্বুলেন্সটি দেয়। তার পর থেকে সেটি পড়ে রয়েছে হারামিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পেছনের ঝোপঝাড়ে! এক দিনের জন্যও সেটি রোগী পরিবহন করেনি! অ্যাম্বুলেন্সেরও দোষ কী, মানুষই তাকে পরিচালনা করবে; এখন দায়িত্ববান মানুষ যদি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন, তাহলে তারও বা কী করার আছে! অ্যাম্বুলেন্সটি যদি কথা বলতে পারত, সম্ভবত তার কণ্ঠেও আক্ষেপ ঝরে পড়ত।
নামকাওয়াস্তে ঢাকঢোল পিটিয়ে সি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে নীতিনির্ধারকরা শুধু নামটাই কামালেন
অ্যাম্বুলেন্স দুটি যখন চালক ও জ্বালানির অভাবে ঘাটে বসে অলস মৃত্যু উপভোগ করছে, তখন আমাদের মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে স্পিডবোটে তিনজনের কোলে চাপিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দিচ্ছি। পত্রিকায় দেখলাম— সাধারণ স্পিডবোট ঘরানার সি অ্যাম্বুলেন্স দুটি উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে পারে না! তাহলে প্রশ্ন আসে— এত টাকা দিয়ে এগুলো কেনইবা কেনা হলো? নামকাওয়াস্তে ঢাকঢোল পিটিয়ে সি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে নীতিনির্ধারকরা শুধু নামটাই কামালেন।
বছরে অন্তত ৫০ দিন বৈরী আবহাওয়ায় সন্দ্বীপ চ্যানেল বন্ধ থাকে। উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে পারে এমন মানের অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন এ সময়। কিন্তু দ্বীপবাসীর আর সে ভাগ্য কোথায়। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর পরও ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল না আমাদের। এখানে মানুষ অসুস্থ হয়, আর অসুস্থ মানুষ বহনের অ্যাম্বুলেন্সও অসুস্থ হয়! মানুষও মারা যায়, অ্যাম্বুলেন্সও মারা যায়— উভয়ের ভাগ্য এক; কেউই প্রপার ট্রিটমেন্ট পায় না।
ইতি
এক সন্দ্বীপবাসী







