আগামীর চোখ
অপরাধী ভূত ও পরিত্যক্ত কারাগার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
জনাব, অনীক দত্তের ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ সিনেমাটির কথা মনে আছে? যেখানে আধুনিক সমাজের রিয়েল এস্টেটের দাপট, বিল্ডারদের চক্রান্ত আর সময়ের আবর্তে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারা একদল বৈচিত্র্যময় ভূত একজোট হয়েছিল নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে? ‘চৌধুরী বাড়ি’র সেই জরাজীর্ণ আশ্রয়স্থলে কতিপয় স্বনামধন্য ভূত যেমন নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় লড়াই করেছিল, তেমনি বাস্তবেও জামালপুরের বকশীগঞ্জে ৪২ বছর ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ৮ বিঘার উপকারাগারটি নিয়ে আজ আমরাও এক ভুতুড়ে সংগ্রামের দ্বারপ্রান্তে এসে পড়েছি। মানুষ যাকে পরিত্যক্ত বলছে, আমাদের কাছে তা প্রয়োজনীয় ‘ভূত-সংশোধনাগার’!
১৯৮৪ সাল থেকে উপকারাগারটি ‘পরিত্যক্ত’ ও ‘বন্দিহীন’ বলে আপনারা দাবি করে আসছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মানুষ সেখানে এক দিনের জন্যও বন্দি থাকেনি সত্য, কিন্তু ভূত সমাজ এই সরকারি স্থাপনাকে ফেলে রাখেনি...।
মূলধারার ভূতকুল জন্মগতভাবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে না
প্রকাশ থাকে যে, মূলধারার ভূতকুল জন্মগতভাবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে না। তবে মর্ত্যলোক থেকে নতুন যেসব ভূত আমাদের জগতে পদার্পণ করে, তারা তাদের কাঁচা ‘মনুষ্য স্বভাব’ পুরোপুরি ত্যাগ করতে পারে না। ফলে তারা পুরনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ মেটাতে অহেতুক মানুষের ঘাড় মটকাতে যায়, কিংবা অযথা গভীর রাতে বিকট আওয়াজ তুলে ভয় দেখানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। এই ‘নবাগত’ ভূতদের কিছু দিন আটকে রেখে নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ‘প্রকৃত ভূতে’ রূপান্তর করার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো এই বকশীগঞ্জ উপকারাগার!
কিন্তু, আপনারা মানুষরা স্থানটি দখল করার পাঁয়তারা করছেন। কেউ সেখানে পার্ক, কেউবা স্টেডিয়াম কিংবা হিমাগার বানানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন! ভূতেরা তো আর সমাজের বাইরের কেউ নয়; অথচ আপনাদের ‘সমাজকল্যাণ’ মন্ত্রণালয় ভুতুড়ে সমাজের এই কার্যক্রমকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না।
আপনারা যদি এই সংশোধনাগারটি ভেঙে পার্ক বা হিমাগার বানিয়ে ফেলেন, তবে এই অনভিজ্ঞ ও অবাধ্য ভূতদের আটক রাখার কোনো জায়গা থাকবে না। ফলে তারা মানুষের ওপর অহেতুক উপদ্রব শুরু করবে। ভূত সমাজে অপরাধ প্রতিরোধব্যবস্থার এমন চরম বিপর্যয় ঘটার জন্য আপনারা সরাসরি দায়ী থাকবেন।
অতএব, বকশীগঞ্জের এই জরাজীর্ণ অবকাঠামোটিকে ‘ভূত-সংশোধনাগার’ হিসেবে বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নতুন ভূতদের সংশোধনের দায়িত্ব আমাদের হাতেই ন্যস্ত থাক, যাতে মনুষ্য সমাজও তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব থেকে রক্ষা পায়।
ইতি
নিখিল বঙ্গ ভূতকল্যাণ সমিতি





