আগামীর চোখ
পাঠশালায় পাট চাষ

প্রিয়
শিক্ষামন্ত্রী,
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘দুই বিঘে জমি’ কবিতায় জমিদারের মুখ দিয়ে বলিয়েছিলেন— ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা।’ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ‘মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ কর্তৃপক্ষ কবিগুরুর কবিতার জমিদারের পঙ্ক্তিকে এতটাই গুরুত্বসহকারে হৃদয়ে ধারণ করেছে যে, তারা আক্ষরিক অর্থেই স্কুলের সীমানা ‘টানা সমান’ করতে নেমে পড়েছিলেন। কবিতার উপেন ছিলেন প্রজা, জমিদারের কাছে জমি সঁপে দেওয়া ছাড়া তার কাছে কোনো অপশন ছিল না। এখন তো জমিদারি প্রথা নেই, তাই জমির মালিক কালাম খান সাহেবকে দুবছর আগে যখন এলাকার প্রভাবশালীরা জমি দিতে বললেন এবং বিনিময়ে ছেলেকে স্কুলের দপ্তরির চাকরি দেওয়ার ‘েটাপ’ দিলেন, তখন জমির মালিক রাজি হলেন। সব ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। ঢাকাগামী ছেলেকে ডেকে এনে কালাম খান কোনো রেজিস্ট্রি ছাড়াই জমিটি স্কুলের জন্য দিলেন। খান সাহেব আবার শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন যে, চাকরি না হলে অন্যত্র তাকে সমপরিমাণ জমি দিতে হবে! কথা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর তৈরি করে নেয়। তারপর দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ দুটি বছর। স্কুলের প্রাচীর খাড়া হলো ঠিকই, কিন্তু কালাম খানের ছেলের ভাগ্যে দপ্তরির চাকরি আর জুটল না।
স্কুলের আঙিনায় পাট চাষের ফলে তাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে
অবশেষে, ক্ষুব্ধ ও প্রতারিত পিতা কালাম খান ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতি অবলম্বন করেছেন। তিনি স্কুলের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে ঢুকে নিজের সেই ১৩ শতাংশ জমিতে মনের সুখে পাট চাষ শুরু করে দিয়েছেন। ফলে মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন আর পাঁচটা সাধারণ স্কুলের মতো নেই; এটি এখন দেশের একমাত্র ‘হিল্লোলিত পাট-পাঠশালা’। জমির মালিকের দাবি সোজা— যেহেতু চাকরি হয়নি, তাই অন্যত্র সমপরিমাণ জমি দিতে হবে। সবদিক মিলিয়ে বিপাকে পড়েছে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্কুলের আঙিনায় পাট চাষের ফলে তাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। শুধু ওই অভিভাবকরাই চিন্তিত নন, একজন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীর পিতা হিসেবে আমি নিজেও চিন্তিত। তাই প্রিয় মন্ত্রী, এক শিক্ষার্থীর পিতা হিসেবে আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন, ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিন। আগামীতে যেন এরকম কোনো নজির তৈরি না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
ইতি
এক শিক্ষার্থীর পিতা






