আগামীর চোখ
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শোপিস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আমি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক পরম সুখী হাসপাতালের অতিসাধারণ, জিন্দালাশ-মার্কা রোগী। আমাদের হাসপাতালে একটি ঝকঝকে, চকচকে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন এসে পৌঁছেছে। তবে আমাদের দেশের প্রচলিত ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ নীতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুধু মেশিনই পাঠানো হয়েছে, টেকনিশিয়ান নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের মূল লক্ষ্য মানুষকে সুস্থ করা নয়, হাসপাতালের রুমগুলোর ‘ইন্টেরিয়র ডিজাইন’ উন্নত করা। একটা অন্ধকার ঘরে কোটি টাকার একটা বিশাল যন্ত্র চুপচাপ রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে আছে— একেই
কুচক্রী ও পরশ্রীকাতর মানুষরা বলছে, টেকনিশিয়ান ছাড়া এক্সরে মেশিন নাকি অচল! তারা বোঝেই না যে, টেকনিশিয়ান থাকলে প্রতিদিন কয়েকশ রোগীর এক্সরে করতে গিয়ে মেশিনটি ক্ষয়ে যেত, বাটনগুলো আলগা হয়ে যেত, বিপুল পরিমাণ কারেন্ট বিল আসত। আপনি যে টেকনিশিয়ান না দিয়ে মূলত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করেছেন, তা বোঝার মতো মগজ কি আমজনতার আছে?
এক্সরে মেশিনটির জ্যামিতিক গঠন এবং স্টিলের উজ্জ্বলতা আধুনিক বিমূর্ত ভাস্কর্যকে হার মানায়
তা ছাড়া, টেকনিশিয়ান না থাকায় এলাকায় বিকল্প চিকিৎসার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। এক্সরে রুমের সামনে কবিরাজ এবং ওঝারা বসে এক্সরে মেশিনের দিকে তাকিয়ে ফুঁ দিয়ে রোগীদের ভাঙা হাড়ে পট্টি বেঁধে দিচ্ছেন। রোগীরাও আধুনিক বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এমন অপূর্ব ফিউশন দেখে মুগ্ধ।
তবে আমার মনে হয়েছে, এ বিশাল ও মূল্যবান মেশিনটিকে শুধু শুধু অবহেলায় ফেলে না রেখে একটি লাভজনক ও বিনোদনমূলক খাতে রূপান্তর করা যায়। এক্সরে মেশিনটির জ্যামিতিক গঠন এবং স্টিলের উজ্জ্বলতা আধুনিক বিমূর্ত ভাস্কর্যকে হার মানায়। কর্তৃপক্ষ যদি এটিকে ‘ডিজিটাল যুগের নিঃসঙ্গতা’ শিরোনামে আধুনিক ভাস্কর্য হিসেবে ঘোষণা করে, তবে সংস্কৃতিমনা মানুষ এটি দেখতে ভিড় জমাবে। হাসপাতালের রাজস্ব বাড়াতে ১০ টাকার টিকিটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্সরে রুমটিকে একটি আকর্ষণীয়
অতএব, মহোদয় সমীপে আকুল প্রার্থনা, ভুল করেও এ হাসপাতালে কোনো এক্সরে টেকনিশিয়ান পাঠাবেন না। টেকনিশিয়ান এলে আমাদের এই শান্ত, নিরিবিলি জাদুঘরের পরিবেশ নষ্ট হবে। যদি একান্তই বাজেট থাকে, তবে সেই টাকা দিয়ে এক্সরে মেশিনের চারপাশে কিছু রঙিন ডিস্কো লাইট এবং একটি সেলফি স্ট্যান্ড বসানোর ব্যবস্থা করে দিলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
ইতি
ভাঙা হাত ও অক্ষত হৃদয়ের অধিকারী নাগরিক



