আগামীর চোখ
রক্ষকেরই নিরাপত্তা সংকট!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের কাজ। এতদিন এমনটাই জেনে এসেছি। কিন্তু উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার পরিস্থিতি দেখে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আমার বদ্ধমূল ধারণার মূলে আঘাত লেগেছে। আমাদের দুই উপজেলায় স্থানীয় ৬ লাখ বাসিন্দা আর ক্যাম্পের ১৪-১৫ লাখ রোহিঙ্গা মিলিয়ে প্রায় সোয়া ২০ লাখ মানুষের বাস। আর এই বিশাল মানবসমুদ্র সামলানোর জন্য আমাদের মোতায়েন রয়েছে মাত্র ১৮৩ পুলিশ সদস্য! গাণিতিক হিসাবে প্রতি ১১ হাজার মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন এক পুলিশ সদস্য! এত মানুষের ভিড়ে পুলিশ সদস্য নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে আমার ধারণা। অবস্থা দেখে ভাবি, কোন দিন না জানি পুলিশ আমাদের কাছেই নিরাপত্তা চেয়ে বসে!
ইদানীং আমাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাচ্ছে। দিনদুপুরে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাসে ডাকাতি হচ্ছে, বাজার থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষকে পাহাড়ে তুলে নিয়ে কোটি টাকার মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। আর চোরাচালান ও মানব পাচার তো এখন আঞ্চলিক শিল্পে পরিণত হতে চলেছে! অন্যদিকে পুলিশের একেকজন তদন্ত কর্মকর্তার ঘাড়ে ৪০-৪৫টি মামলার ফাইল!
অবস্থা দেখে ভাবি, কোন দিন না জানি পুলিশ আমাদের কাছেই নিরাপত্তা চেয়ে বসে!
অপহরণ করে দুর্গম পাহাড়ে বন্দি করে রাখার ঘটনা যে হারে বেড়েছে তাতে পুলিশের কাছে কি নিরাপত্তা চাইব, উল্টো পুলিশ ভাইদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে বলতে হবে– ‘ভাই, আপনারা যখন-তখন বাইরে বেরোবেন না; বাইরে পরিস্থিতি ভালো না। কোথাও একা যাবেন না, আমাদের খবর দেবেন। এসে নিয়ে যাব। কাজ শেষে আবার স্টেশনে পৌঁছে দেব।’
একজন অতিসাধারণ এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার কাছে এই চিঠি লিখছি। কারণ, নিজের নিরাপত্তার চেয়ে পুলিশ ভাইদের নিরাপত্তা নিয়েই আমরা এ মুহূর্তে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কায় দিনাতিপাত করছি। আপনি উখিয়া-টেকনাফের পুলিশ ভাইদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। নইলে আমাদেরই স্থানীয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে পুলিশ ভাইদের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। আপনি ভাবছেন, আমাদের নিরাপত্তার কী হবে? প্রতিনিয়ত ভয়ে আর আতঙ্কে থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন ভয় আর আমাদের ধরে না। তাও যদি আমাদের নিরাপত্তার কথা ভাবেন, তাহলে পুলিশের উপিস্থিতি বাড়াতে পারেন দুই উপজেলায়। এক ঢিলে দুই পাখি শিকার হবে এতে। পুলিশের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ইতি
স্থানীয় এক বাসিন্দা



