আগামীর চোখ
টেসলাকে মাটিতে নামানোর ষড়যন্ত্র

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
মহোদয়, সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা টেসলা পাইলট সমাজ স্থানীয় সরকার বিভাগের ই-রিকশা নীতিমালা প্রণয়নের সংবাদে গভীরভাবে মর্মাহত, অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হইয়াছি। আমরা কি আকাশপথের মানুষকে মাটির মানুষ বানাইবার ষড়যন্ত্রের শিকার হইতেছি?
জনাব, আমাদের বাহনের নাম টেসলা। আমরা চালক নই, পাইলট। আমাদের যাত্রীরা যাত্রী নহে— প্যাসেঞ্জার। আমাদের পথঘাট স্রেফ রাস্তা নহে, রানওয়ে। গলির মোড় আমাদের টার্নিং পয়েন্ট, বাঁক আমাদের নেভিগেশন, আর ব্রেক ফেল করা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নহে— উড্ডয়নকালীন টার্বুলেন্স। এই যে আমরা প্রতিদিন যানজটের বুক চিরিয়া, বাসের বাম্পার ঘেঁষিয়া, পথচারীর কলিজা কাঁপাইয়া টেসলা চালাইয়া যাই, ইহা কি সাধারণ পরিবহন সেবা? ইহা এক মহাকাব্যিক অ্যাভিয়েশন-অভিজ্ঞতা!
অথচ দুঃখের বিষয়, আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করিতেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ! আমরা জানতে চাই, আমাদের কেন বিমান চলাচল বা অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়া হইবে না? আমাদের পাইলটদের লাইসেন্স, ফ্লাইট আওয়ার, ককপিট ট্রেনিং, নেভিগেশন— কোনোটিরই যথাযথ মূল্যায়ন নাই। উল্টো বলা হইতেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগিবে না। ইহা কি সম্মান, নাকি আমাদের পাইলট পরিচয়কে অস্বীকার করিবার এক অভিনব কৌশল? পাইলটের লাইসেন্স লাগিবে না অথচ টেসলার নিবন্ধন লাগিবে— এ কেমন নীতি?
আমাদের বাহনের নাম টেসলা। আমরা চালক নই, পাইলট। আমাদের যাত্রীরা যাত্রী নহে—প্যাসেঞ্জার
আমাদের আশঙ্কা, রিকশার রঙ নির্ধারণ, জোন ভাগ, কিউআর কোড, স্পিডোমিটার— এসবের আড়ালে আমাদের মাটিতে নামাইয়া আনার নীলনকশা আঁকা হইতেছে। আজ আট জোনে আট রঙ, কাল হয়তো আকাশসীমা নির্ধারণ করিবে; পরশু বলিবে, টেসলা শুধু গলিতে চলিবে! ইহা পাইলট সমাজের স্বাধীন উড্ডয়নের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
আমরা অবশ্য স্বীকার করি, আমাদের এই উড্ডয়নে কখনো কখনো যাত্রীদের শেষ গন্তব্য আর গন্তব্য থাকে না। টেসলা উড়ুক বা না উড়ুক, ব্রেক কাজ করুক বা না করুক, বহু যাত্রী দুর্ঘটনায় আহত হইয়া হাসপাতালে এবং অনেকে লাশ হইয়া পরপারে পাড়ি জমান। কিন্তু মহোদয়, বিমান দুর্ঘটনা বলিলে কি বিমান নিষিদ্ধ হয়? অতএব, আমাদেরও দুর্ঘটনার দায়ে সাধারণ চালক বলিয়া চিহ্নিত করা চলিবে না। নিরাপত্তা চাই, তবে পাইলটের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখিয়া।
বিনীত দাবি, ই-রিকশা নীতিমালা স্থানীয় সরকার বিভাগ হইতে প্রত্যাহার করিয়া অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হোক। আমাদের উপযোগী মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক। আমরা টেসলা চালাই, রকেট চালাই না— এ কথা বলিয়া আমাদের ছোট করিবেন না। আমরা মাটিতে থাকিয়াও উড়িতে জানি। শুধু সরকার যেন আমাদের ডানা কাটিয়া না দেয়!
ইতি
একজন টেসলা পাইলট



