১০ মিনিটের অভিযানে এডিসের জীবনচক্র ধ্বংস করা সম্ভব

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, এটি এখন বিস্তৃত গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ বাস্তবতায় শুধু মশার ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়; বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বিত উদ্যোগই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, এমনকি ফ্রিজের নিচের ড্রেনের পানিও এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই পানিধারণ করে এমন সবকিছুই নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত এক দিন ‘১০ মিনিটের পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ চালালে এডিস মশার জীবনচক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, এডিস মশা প্রচলিত অনেক কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। তাই এডিস মশা প্রতিরোধে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করার পাশাপাশি নতুন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই।
একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু সম্পর্কিত পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে ২৪ ঘণ্টা নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা
নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনার আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া যেতে পারে। জনগণের সচেতনতার সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের এই সম্মিলিত সক্রিয়তাই পারে আমাদের ডেঙ্গুমুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে।
লেখক: প্রভাষক, জয়পুরা এসআরএমএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর




