বাজেট ২০২৬-২৭
গুরুত্বপূর্ণ দিক জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ এবং নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু ও নবম জাতীয় বেতন স্কেল প্রবর্তনের অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই উন্নয়নমুখী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
এবারের বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগকে তাই উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ ধরনের বরাদ্দ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে বাজেটের ৭৪ শতাংশ অর্থ রাজস্ব উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিফলন। যদিও বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, তবুও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে এই ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন।
এই বাজেটের পেছনে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শন কাজ করেছে, তার মধ্যে জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা লক্ষ করা যায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত সংস্কার, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকার বাজেটের বিভিন্ন অগ্রাধিকারে প্রতিফলিত হয়েছে বলে অনেকের কাছে প্রতীয়মান হতে পারে। বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ ভবিষ্যতমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; বরং একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা। যথাযথ বাস্তবায়ন, সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেট দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
লেখক: সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক
জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।




