পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক স্থানে হামলার পর পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। বাহারাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটি। হামলা হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে থাকা দুটি জাহাজেও।
এর আগে বুধবার মার্কিন বাহিনী জানায়, ইরানের অযাচিত ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এর মধ্যে কয়েকটি হামলা ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ মাইল (৬৪ কিমি) দূরে করা হয়েছিল।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশে টহল দিচ্ছে এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাডার ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি ‘বারবার লঙ্ঘনের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে’।
আইআরজিসি বলছে, তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সমস্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
আইআরজিসি জানায়, অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টাকালে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং আহমদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান।
ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংসের একদিন পর এই হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাম্প গণমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “খুব কঠোরভাবে” আঘাত করবে।
তারও আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অনেক বেশি সময় নিয়েছে এবং “এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে”।
পাল্টা জবাব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো জনগণের জীবনরেখা। পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি শিল্প পর্যন্ত বিভিন্ন খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি হতাশার লক্ষণ।
সূত্র: আলজাজিরা






