নড়াইল
মসজিদ সংস্কারের টাকা আত্মসাৎ করলেন প্রকৌশলী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নড়াইল জেলা পরিষদের আওতাধীন একটি মসজিদ সংস্কার প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সিংহভাগ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে।
ঘটনায় জেলা পরিষদের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বদলি হয়ে খুলনা জেলা পরিষদে চলে যাওয়ায় এখনো তার বিরুদ্ধে নেওয়া যায়নি কার্যকর ব্যবস্থা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলার সুলটিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদ সংস্কার শীর্ষক প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছরের ১০ জুলাই তৎকালীন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান ও প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরে ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের পর ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদনের দায়িত্বে থাকা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফের তত্ত্বাবধানে কাজের অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পরিষদ।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুলটিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদ সংস্কার প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব খোলা হয়নি। বরাদ্দের টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে এবং এলাকায় ঈদগাহ থাকলেও সেখানে কোনো মসজিদ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৫ ফরিদা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেছেন, সুলটিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদের সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনায় দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে বিভাগীয় ব্যবস্থা। প্রকল্প কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে থানায়।
তিনি আরও জানান, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ খুলনায় বদলি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোমিনুর রহমান বললেন, এ সংক্রান্ত নথি নড়াইল জেলা পরিষদে রয়েছে। ইতিমধ্যে নথি তলব করা হয়েছে। নথি পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




