হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌ ইউনিট

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিটগুলোর মধ্যে হয়েছে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলি। এ হামলার পর, হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ।
প্রতিবেদন বলছে, এখন পর্যন্ত ইরানের সাতটি উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্দর আব্বাস, মিনাব, সিরিক, কেশব, গোরগান ও হেঙ্গাম দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় করা হয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফারস প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও পরে দাবি করা হয়, সেটি শহরের বাইরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার আওয়াজ।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দেশজুড়ে সব জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এদিকে পাল্টা প্রতিরোধে একটি যুদ্ধবিমানকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি’র দাবি, উপসাগরীয় আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের দিকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে পিছু হটতে বাধ্য হয় সেটি। এছাড়াও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি ‘নিয়মভঙ্গকারী’ জাহাজে আঘাত হেনেছে আইআরজিসি’র নৌ ইউনিট। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
হামলার ঘটনার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজও। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে করা হবে লক্ষ্যবস্তু।
সেন্টকমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে চালানো হয়েছে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’। ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে এসব হামলা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আজ রাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড ব্যস্ত থাকবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা ইরানে কঠোর আঘাত হানব এবং আমরা তা-ই করব।’ তার দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি আনতেই প্রয়োগ করা হচ্ছে সামরিক চাপ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমরা পরাজিতদের সঙ্গে লড়াই করতে ভয় পাই না।’ তিনি দাবি করেন, মার্কিন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং ‘এবার যুদ্ধ শুধু এই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না’।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, নতুন হামলার আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ইরান। কারণ, কয়েক ঘণ্টা ধরেই নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।





