রাজশাহী
হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি, প্রতিবাদে বন্ধ আলু বেচাকেনা

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭৫ টাকা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৯ জুন) থেকে আলু বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
বুধবার দুপুরে পবা উপজেলার তকিপুর এলাকায় সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এ তথ্য।
এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় ছিলেন সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সে সময় বস্তাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হতো আলু। প্রতি বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা পরে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়। এই ভাড়ার মধ্য থেকেই বিভিন্ন হারে কমিশন পেতেন আলু সংরক্ষণকারীরা।
তার অভিযোগ, ২০২৫ সালে একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করে হিমাগার মালিক ও ব্যবস্থাপক সমিতি। এর ফলে প্রতি বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর সৃষ্টি করেছে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।
তার ভাষ্য, সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিল কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। পরবর্তীতে সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ১৯ এপ্রিল হিমাগার ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে করা হয় লিখিত আবেদন। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি কোনো কার্যকর সমাধান।
এ অবস্থায় দাবি আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সমিতির নেতারা বলেন, ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের হিমাগার থেকে বন্ধ থাকবে আলু বেচাকেনা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাজশাহী জেলায় রয়েছে মোট ৩৬টি হিমাগার। প্রতিটি হিমাগার থেকে দৈনিক বাজারে সরবরাহ করা হয় প্রায় এক হাজার বস্তা আলু। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা, সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সমিতির নেতারা।




