ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে বর্ষা এখন শুধু স্বস্তির ঋতু নয়, ডেঙ্গুরও মৌসুম। প্রতিবছর বর্ষা শুরু হলেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে চাপে পড়ে। একসময় রাজধানীকেন্দ্রিক এই রোগ এখন দেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ডেঙ্গু আর কেবল একটি নগর সমস্যা নয়; বরং এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রতিবছর একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার পরও কেন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না?
এর প্রথম কারণ, আমরা এখনো ডেঙ্গুকে একটি মৌসুমি সমস্যা হিসেবেই বিবেচনা করছি। বর্ষা শুরু হলে মশক নিধন অভিযান, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা কিছুটা বাড়ে। কিন্তু বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তৎপরতাও থেমে যায়। ফলে পরের বছর আবার একই সংকট ফিরে আসে। অথচ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম হতে হবে বছরব্যাপী, পরিকল্পিত এবং তথ্যভিত্তিক।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দিতে হবে। এটার শুরুটা হতে পারে বিদ্যালয় থেকে। বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব শেখাতে হবে। শিক্ষকদের নেতৃত্বে বিভিন্ন দলে দলে ভাগ হয়ে স্কুলের আশপাশে। এর প্রভাব শিক্ষাথীর্দের বাড়িতেও পড়বে। জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে প্রতিটি মহল্লা, ওয়ার্ড ও গ্রামে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন এডিস মশার বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। তাই ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ আর নেই। জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, সিলেট




