মাদ্রাসায় সরকারের নজরদারি প্রয়োজন

একজন অভিভাবক তার প্রিয় সন্তানকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করান। নিরাপদ ভেবেই তারা সন্তানকে সেখানে পাঠান। কিন্তু মাদ্রাসার চার দেয়ালের মাঝেই আজ শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, দেশের মাদ্রাসাগুলো থেকে শিশু যৌন নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। যৌন নির্যাতনের পর ভয়ভীতি দেখানোর ফলে অনেক শিশু ভয়ে ও লজ্জায় আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে। মা-বাবাকে বলতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অনেক শিশু।
মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা মাদ্রাসার সম্মান রক্ষার্থে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করেন এবং জড়িত ব্যক্তিকে বাঁচাতে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আপস করতে বাধ্য করেন। ফলে বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হয় না। তাই সরকারের উচিত হবে যত্রতত্র ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা মাদ্রাসাকে সরকারি নিবন্ধনের মাধ্যমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতোই পরিচালনা করা।
মাদ্রাসার শিশুরাও এই দেশের সন্তান, আমাদেরই সন্তান। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। প্রয়োজনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা বোর্ড, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিশু অধিকারকর্মী এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের লাখ লাখ শিশু এই ধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা শিশুরা অধিকাংশই আসে দরিদ্র-অতিদরিদ্র পরিবার থেকে। এ ছাড়া মা-বাবা মারা যাওয়ার পর আত্মীয়স্বজন অনেক শিশুকে এসব আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। তাই এ শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
একটি শিশু স্কুলে পড়ুক কিংবা মাদ্রাসায়, তার অধিকার সমান। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হোক, সচ্ছল পরিবারের কিংবা অভিভাবকহীন বেড়ে উঠুক— তার অধিকার সমান। তাই এই মাদ্রাসা শিক্ষা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে দেশের প্রকৃত ইসলামি চিন্তাবিদ ও প্রখ্যাত আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক: প্রকৌশলী, বগুড়া



