গোলমেলে বিশ্বে ফায়দা পুতিনের!

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে; অর্থনীতি বিপর্যস্ত। বিশ্ব রাজনীতিতে মস্কোর প্রভাবও নিভু নিভু। পশ্চিমারা ধরেই নিয়েছিল, রাশিয়া ধীরে ধীরে ইতিহাসের প্রান্তে চলে যাবে; ডুবে যাবে রুশ সূর্য। কিন্তু ইতিহাস সবসময় অনুমান মেনে চলে না।
তিন দশক পর দেখা গেল, যে রাশিয়াকে অনেকেই পড়ে যাওয়া শক্তি ভেবেছিল, সেই রাশিয়াই আবার বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় খেলোয়াড়। ইউক্রেনের যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, ন্যাটোর চাপ—কোনোটিই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মস্কোকে ভাঙতে পারেনি। বরং অস্থির ও বিভক্ত এক বিশ্বে রাশিয়া নিজের সামরিক শক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রভাব ধরে রেখেছে।
আর এখানেই সাসপেন্স, গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। রাশিয়া কি সত্যিই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, নাকি কেবল এমন এক সময়ের সুবিধা নিচ্ছে, যখন বিশ্ব নিজেই বিশৃঙ্খলার সাগরে ডুবে আছে?
যদিও এখনকার বিশ্ব রাজনীতি স্থির নয়। আজ যে বাস্তবতা মস্কোর পক্ষে কাজ করছে, কাল সেটিই বদলে যেতে পারে। যুদ্ধ থামতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ আবার ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এমনকি বিশ্বায়ন নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে। প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার প্রধান মাপকাঠি।
সেদিনই রাশিয়ার সামনে প্রশ্নটি হবে আরও কঠিন— যে দেশটি বিশৃঙ্খলার মধ্যে টিকে থাকতে শিখেছে, সে কি শান্তি ও পরিবর্তনের যুগে নিজের শক্তি ধরে রাখতে পারবে? রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আসল উদ্বেগ হয়তো এখানেই।
অস্থির বিশ্ব রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক
বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রাশিয়ার জন্য এক অর্থে অনুকূল। বিশ্ব এখন আগের তুলনায় বেশি বিভক্ত। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বিশ্বায়নের গতি কমেছে। জাতীয়তাবাদ ও জনতুষ্টিবাদ শক্তিশালী হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও বাড়ছে মতবিরোধ। এমন এক পৃথিবীতে সামরিক শক্তির মূল্য বাড়ে। আর সামরিক শক্তিই রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সম্পদ।
পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বী। চীন দ্রুত তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে বেইজিংয়ের আরও সময় লাগবে।
এই পারমাণবিক সক্ষমতা শুধু রাশিয়াকে সামরিক নিরাপত্তা দেয় না। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর প্রভাব রয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত স্থিতিশীলতা, পারমাণবিক বিস্তার রোধ—এসব প্রশ্নে রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
প্রচলিত সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও মস্কোর অবস্থান দুর্বল নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে রুশ বাহিনীর বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেলেও দীর্ঘ যুদ্ধ তাদের কৌশল ও সক্ষমতায় পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, দূরপাল্লার অস্ত্র এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতের সংঘাতের পৃথিবীতে এই অভিজ্ঞতা মস্কোর জন্য একটি বড় সম্পদ হতে পারে।
প্রাকৃতিক সম্পদও রাশিয়ার কৌশলগত শক্তি
রাশিয়ার আরেকটি বড় সুবিধা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। তেল, গ্যাস, কয়লা, গম, সার, ইউরেনিয়াম, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও হীরা—বিশ্ব অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বহু পণ্যের বড় সরবরাহকারী রাশিয়া।
ইউরোপ রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে ঠিকই। কিন্তু চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের বড় বাজার হয়ে উঠেছে। বিশ্ব যখন সরবরাহ-নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এসব সম্পদ রাশিয়াকে বাড়তি দর-কষাকষির ক্ষমতা দিচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও লক্ষ করা যায়। একসময় বিশ্ব অর্থনীতির মূল প্রশ্ন ছিল কম দামে পণ্য পাওয়া। এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—পণ্যটি আদৌ পাওয়া যাবে কি না। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা রাশিয়ার মতো সম্পদসমৃদ্ধ দেশের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থা: শক্তি নাকি দুর্বলতা?
রাশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত। পশ্চিমা গণতন্ত্রে সরকারকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়। রাজনৈতিক বিরোধিতা, জনমত ও গণমাধ্যমের চাপ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে। রাশিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত।
বর্তমান অস্থির আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এর কিছু সুবিধা আছে। ক্রেমলিন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নেও রাজনৈতিক বাধা তুলনামূলক কম। পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনে ব্যস্ত, রাশিয়া সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দ্রুত নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু যে ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদে শক্তি তৈরি করে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে দুর্বলতার কারণ হতে পারে। কারণ স্থিতিশীলতা আর অভিযোজনক্ষমতা এক জিনিস নয়।
রাশিয়ার আসল পরীক্ষা শুরু হবে বিশ্ব শান্ত হলে
রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সম্ভবত আজকের অস্থিরতা নয়। বরং অস্থিরতার অবসান। ইতিহাসে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার চরিত্র বারবার বদলেছে। যুদ্ধের পর এসেছে শান্তি। সংঘাতের পর হয়েছে সমঝোতা। বিচ্ছিন্নতার পর ফিরেছে বাণিজ্য ও সহযোগিতা।
বর্তমান বিশ্বও একদিন এমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নেতৃত্ব বদলাতে পারে। ওয়াশিংটন আবার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের মধ্যে নতুন কোনো বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বর্তমান সংকট কাটিয়ে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ সংঘাতেরও একসময় অবসান হতে পারে। এমন একটি পৃথিবীতে রাশিয়ার বর্তমান শক্তির অনেক উপাদানের মূল্য কমে যেতে পারে। কারণ শান্তিপূর্ণ বিশ্বে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে প্রভাব ধরে রাখা যায় না। সেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক আস্থার গুরুত্ব বেড়ে যায়।
অর্থনীতি ও জনসংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন
এখানেই রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাগুলো সামনে আসে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার চীন বা ভারতের মতো বিশাল নয়। একই সঙ্গে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি।
ফলে কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভর করে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ সীমিত। আবার তেল ও গ্যাস রপ্তানি বাড়িয়েও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বিশ্ব ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্পের দিকে এগোচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সহজ হবে না। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইন, স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ যত বেশি কেন্দ্রীভূত হবে, এসব ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তত বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা
রাশিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ সম্ভবত প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং জিন প্রযুক্তি—আগামী দিনের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করছে এসব খাত।
এখানে শুধু রাষ্ট্রের শক্তি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোগ। প্রয়োজন উদ্যোক্তা। প্রয়োজন গবেষণা ও বিনিয়োগের স্বাধীনতা। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে নতুন ধারণা দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রকেন্দ্রিক উদ্ভাবন কাঠামো এই জায়গায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। রাষ্ট্র দ্রুত অর্থ ও সম্পদ মবিলাইজ করতে পারে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির বিপ্লব সবসময় ওপর থেকে নির্দেশ দিয়ে তৈরি হয় না। অনেক সময় তা আসে ছোট কোম্পানি, গবেষণাগার কিংবা একজন উদ্যোক্তার কাছ থেকে।
এই জায়গায় রাশিয়াকে যদি নিজের কাঠামো পরিবর্তন করতে না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
আর্কটিক হতে পারে নতুন সুযোগ
তবে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার নয়। বরং তার হাতে রয়েছে একটি বড় ভূরাজনৈতিক সুযোগ—আর্কটিক অঞ্চল। বিশ্বের দীর্ঘতম আর্কটিক উপকূল রাশিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নৌপথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাও বাড়ছে।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবেও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে চীন ও ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রয়োজন। বর্তমান বাস্তবতায় সেটিই সবচেয়ে কঠিন বিষয়।
‘অবরুদ্ধ দুর্গ’ নীতি কি বদলাতে হবে?
রাশিয়ার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেকটা ‘অবরুদ্ধ দুর্গ’ ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ বাইরের বিশ্বকে মূলত হুমকি হিসেবে দেখা এবং রাষ্ট্রকে সেই হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা।
স্বল্পমেয়াদে এই কৌশল কার্যকর হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য দিতে হতে পারে রাশিয়াকেই। কারণ রাশিয়ার বিশাল ভূখণ্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানবসম্পদকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ প্রয়োজন।
বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে। একসময় ইউরোপ ছিল রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারদের একটি। ইউরোপ থেকেই রাশিয়া প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আধুনিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার বড় অংশ পেয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর সেই সম্পর্ক প্রায় ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধের অবসান হলেও সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরতে সময় লাগবে। তবু দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার স্বার্থেই ইউরোপের সঙ্গে কোনো না কোনো ধরনের সম্পর্ক পুনর্গঠন করা জরুরি হতে পারে।
রাশিয়ার সামনে এখন যে সিদ্ধান্ত
রাশিয়া বর্তমান বিশ্বে দুর্বল কোনো শক্তি নয়। বরং অস্থিরতা, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে মস্কো তার সামরিক শক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কূটনৈতিক কৌশল কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু বর্তমান সাফল্য ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। বিশ্ব যদি আরও বিভক্ত হয়, রাশিয়া হয়তো তার বর্তমান মডেল দিয়েই দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু বিশ্ব যদি আবার সহযোগিতা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক নির্ভরতার দিকে ফিরে যায়, তখন রাশিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করবে।
তখন সামরিক শক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন হবে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা। প্রয়োজন হবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক আস্থার। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
রাশিয়ার ইতিহাসে পরিবর্তনের স্মৃতি সুখকর নয়। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের অভিজ্ঞতা রুশ সমাজের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সেই সময় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বেকারত্ব ও সঞ্চয় হারানোর অভিজ্ঞতা মানুষের মধ্যে স্থিতিশীলতার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে।
কিন্তু স্থিতিশীলতার প্রতি এই আকাঙ্ক্ষাই যদি পরিবর্তনের প্রতি অনীহায় পরিণত হয়, তখন সেটিই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ বড় শক্তিগুলো সবসময় বাইরের আঘাতে পতিত হয় না। কখনো কখনো তারা সময়ের পরিবর্তন বুঝতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের শক্তিকেই দুর্বলতায় পরিণত করে। রাশিয়ার সামনে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি পশ্চিমকে কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো—বিশ্ব বদলে গেলে রাশিয়া নিজেকে কতটা বদলাতে পারবে।
সাময়িক বিশৃঙ্খলা মস্কোকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে বিশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর না করে পরিবর্তনের সঙ্গে চলতে হবে। সেটিই হবে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ শক্তির প্রকৃত পরীক্ষা।
লেখক : উপ-বার্তা সম্পাদক, আগামীর সময়







