সেই ২০ অক্টোবরেই আবার মৃত্যুর মিছিল বড়াইগ্রামের সড়কে

সংগৃহীত ছবি
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবরের কথা। সেদিন বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৭ জন। ঠিক ১২ বছর পর একই তারিখে আবারও বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল বড়াইগ্রামে।
আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে।
আগামীর সময়কে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানাতে পেরেছে পুলিশ। তারা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুরুদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, গতকাল রাতে রাতে বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাসটি বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে ঝিনাইদহ থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নয়জন যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও হাসপাতালে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাকিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত দুটি বাসের একটি গুরুদাসপুর এবং আরেকটি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। যাত্রীদের অনেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল বলে জানা যায়।




